ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করেছে বিএনপি। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ১২ মার্চ নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। আইন অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের মেয়াদ প্রথম অধিবেশন থেকে পাঁচ বছর। এই সংসদের মেয়াদ আগামী ২০৩১ সালের মার্চ পর্যন্ত থাকবে। সরকারি […]
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করেছে বিএনপি। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ১২ মার্চ নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
আইন অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের মেয়াদ প্রথম অধিবেশন থেকে পাঁচ বছর। এই সংসদের মেয়াদ আগামী ২০৩১ সালের মার্চ পর্যন্ত থাকবে।
সরকারি দলীয় নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিরোধী দলীয় নেতা হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
প্রথম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিকতা
ত্রয়োদশ সংসদে নির্বাচিত ২৯৬ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২২৭ জন প্রথমবারের মতো সংসদে যোগ দিচ্ছেন। এর ফলে সংসদ কার্যপ্রণালি ও আইন প্রণয়নের জটিল প্রক্রিয়া বোঝার জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে।
সংসদের প্রথম অধিবেশনে সাধারণত বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার সভাপতিত্ব করেন। কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে বৈঠক শুরু হয়। উদ্বোধনী বৈঠকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন এবং বিদায়ী স্পিকারের স্বাগত ভাষণ থাকে।
যদি বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকেন, রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি বা সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজন সাময়িক সভাপতির দায়িত্ব নিতে পারেন।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন
সাধারণত সরকারি দল থেকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। এবার বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার পদ দেওয়া হবে। প্রথম অধিবেশনে নির্বাচন শেষ হলে কিছু সময়ের বিরতি হয় এবং নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। শপথ শেষে বৈঠক পুনরায় শুরু হয় এবং নবনির্বাচিত স্পিকার স্বাগত ভাষণ দেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ
স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার শপথ নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতির ভাষণ অনুষ্ঠিত হয়। ভাষণ লিখিত থাকে এবং মন্ত্রিসভায় অনুমোদনপ্রাপ্ত হয়। এতে নতুন সরকারের বক্তব্য এবং বিগত শাসনামলের বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত থাকে। রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে সম্মান দেখান এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
সংসদ পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ
সংসদ কার্যপ্রণালি বিধি অনুসরণ করে পরিচালিত হয়। স্পিকার কার্যতালিকা অনুমোদন করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রথমে কণ্ঠভোট নেওয়া হয়। যদি কেউ আপত্তি করেন, তবে বিভক্তি ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
সংসদীয় প্রস্তাবিত কাজগুলো স্পিকার ও সদস্যদের সমন্বয়ে পরিচালিত হয় এবং সব নিয়মাবলী ও রীতি মেনে আইন প্রণয়ন করা হয়।
এই কারণেই বিশ্লেষকরা ত্রয়োদশ সংসদকে ব্যতিক্রমী বলছেন—কারণ সদস্যদের প্রায় ৭৬% নতুন এবং অনেকেই কার্যপ্রণালির সঙ্গে পরিচিত নন।