ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে জড়ো হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। এই আয়োজনের মধ্যেই সৌদি আরবের প্রতিনিধি দলের সামনে পবিত্র কোরআনের একটি নির্দিষ্ট আয়াত তেলাওয়াতকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) বিদেশি প্রতিনিধিদের জন্য খামেনির কফিন প্রদর্শনের সময় সৌদি আরবের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলও সেখানে […]
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে জড়ো হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। এই আয়োজনের মধ্যেই সৌদি আরবের প্রতিনিধি দলের সামনে পবিত্র কোরআনের একটি নির্দিষ্ট আয়াত তেলাওয়াতকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিদেশি প্রতিনিধিদের জন্য খামেনির কফিন প্রদর্শনের সময় সৌদি আরবের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলও সেখানে উপস্থিত ছিল। দলটির নেতৃত্ব দেন সৌদি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-খেরেজি।
ইরানি আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সামনে পবিত্র কোরআনের ভিন্ন ভিন্ন আয়াত তেলাওয়াত করা হয়। তবে সৌদি প্রতিনিধিদলের সামনে তেলাওয়াত করা হয় সুরা আলে ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত, যা ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে।
উক্ত আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন—
“তোমাদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে সেই দুই দলের মধ্যে, যারা পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল। একদল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করছিল এবং অপরদল ছিল অবিশ্বাসী। অবিশ্বাসীরা নিজেদের চোখে মুসলিমদেরকে দ্বিগুণ দেখছিল। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা নিজের সাহায্যের মাধ্যমে শক্তিশালী করেন। নিশ্চয়ই এতে দৃষ্টিশক্তিসম্পন্নদের জন্য শিক্ষা রয়েছে।”
এই আয়াত নির্বাচনের তাৎপর্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, সৌদি প্রতিনিধিদের সামনে এই নির্দিষ্ট আয়াত তেলাওয়াতের মাধ্যমে ইরান একটি প্রতীকী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করে থাকতে পারে।
প্রতিবেদনটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরান হয়তো নিজেদেরকে ‘আল্লাহর পথে সংগ্রামরত’ পক্ষ হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছে এবং তাদের প্রতিপক্ষকে সেই ঐতিহাসিক ঘটনার অপর পক্ষের সঙ্গে প্রতীকীভাবে তুলনা করার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ এটিকে কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ বলেও মন্তব্য করছেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের মধ্যস্থতায় দীর্ঘদিনের বৈরিতা কমিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পথে এগিয়েছে ইরান ও সৌদি আরব। তবে আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান এখনও অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন।
তথ্যসূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল