হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর কোনো দেশ যেন এককভাবে টোল আরোপ করতে না পারে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একমত হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই অবস্থান থেকে ধারণা করা হচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ নিয়ে ইরানের ওপর চাপ তৈরির ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ও বেইজিং অন্তত আংশিকভাবে একই […]
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর কোনো দেশ যেন এককভাবে টোল আরোপ করতে না পারে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একমত হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এই অবস্থান থেকে ধারণা করা হচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ নিয়ে ইরানের ওপর চাপ তৈরির ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ও বেইজিং অন্তত আংশিকভাবে একই অবস্থানে রয়েছে।
এমন সময় এই বক্তব্য সামনে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে আলোচনা চলছে। জানা গেছে, সেই বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে হরমুজ প্রণালির বিষয়টিও থাকতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালানোর পর তেহরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। এরপরই ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কড়াকড়ি করে। এতে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। কারণ বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, গত এপ্রিলে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে ফোনালাপ হয়। সেখানে দুই পক্ষই আন্তর্জাতিক জলপথে কোনো দেশের টোল আরোপের বিরোধিতা করে।
সাধারণত এ ধরনের কূটনৈতিক আলাপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিস্তারিত মন্তব্য করে না। তবে এবার তারা প্রকাশ্যেই বিষয়টি সামনে এনেছে। চীনের দূতাবাসও যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য সরাসরি অস্বীকার করেনি। চীনা মুখপাত্র লিউ পেংইউ বলেছেন, হরমুজ অঞ্চলকে নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাখা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থ।
ইরান যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল আদায়ের অধিকার চেয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ জোরদার করেছে। একপর্যায়ে ট্রাম্প নিজেও টোল আদায়ের সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। তবে পরে হোয়াইট হাউস জানায়, তারা হরমুজকে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে চায়।
যদিও চীন এখনো ইরানের টোল দাবির বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের সমালোচনা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ ইস্যুতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সমন্বিত অবস্থান ইরানের ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।