হরমুজ প্রণালীর ওমান উপকূলে মার্কিন সামরিক হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে ইরান। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন ও সমুদ্রপথে চলাচলের স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করেছে তেহরান। শুক্রবার (১২ জুন) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় নিহতদের পরিবারের প্রতি […]
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীর ওমান উপকূলে মার্কিন সামরিক হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে ইরান। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন ও সমুদ্রপথে চলাচলের স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করেছে তেহরান।
শুক্রবার (১২ জুন) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনীর হামলা এবং এর ফলে তিন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু আবারও প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করে শক্তির অপব্যবহার করছে।
বাঘায়েই নিহত ভারতীয় নাগরিকদের পরিবার, স্বজন, ভারতের জনগণ ও সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।
ইরানি মুখপাত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ বৈশ্বিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ সেই নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ জুন, যখন হরমুজ প্রণালীর ওমান উপকূলে পালাউয়ের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। জাহাজটিতে মোট ২৮ জন নাবিক ছিলেন, যাদের মধ্যে ২৪ জনই ছিলেন ভারতীয় নাগরিক।
হামলার পর তিন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ হন। পরে ভারতের কেন্দ্রীয় জাহাজ চলাচলমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে নিখোঁজ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং তারা নিহত হয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে ভারতেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। নয়াদিল্লি ইতোমধ্যে হামলা বন্ধ এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এ ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতার সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র: ফার্স্টপোস্ট