সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
১:০৭ পিএম, ২ জুন ২০২৬

হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলাদেশের আলোচিত হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতায় একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি দাবি করেন, গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে এসেছিল। পরে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স তাদের গ্রেফতার করলেও এ […]

হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

বাংলাদেশের আলোচিত হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতায় একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি দাবি করেন, গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে এসেছিল। পরে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স তাদের গ্রেফতার করলেও এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

মঙ্গলবার কলকাতার ঝর্ণা মঞ্চে বিজেপির বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দেশের স্বার্থ, নিরাপত্তা এবং দুই দেশের সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে এতদিন তিনি এ বিষয়ে মুখ খোলেননি। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছু বিষয় সামনে আনা জরুরি হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গ্রেফতারের পর বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছিল। কিন্তু পরে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনকে এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, চাইলে তিনি অনেক আগেই এ বিষয়ে সরব হতে পারতেন, কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থে তিনি নীরব ছিলেন।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিত দেন, তিনি যদি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে শুরু করেন, তাহলে বাংলাদেশেও বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সেই কারণেই এখনো তিনি সংযত অবস্থান বজায় রেখেছেন বলে জানান।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্কের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের একজন শীর্ষ নেতার এই বক্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে প্রকাশ্য রাজনৈতিক মঞ্চে বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট এমন অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ আরও তীব্র হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার বক্তব্যে আরও অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিরোধী মতকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি দাবি করেন। দীর্ঘদিন চুপ থাকার পর এখন আর নীরব থাকার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগেও তিনি সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি সেই অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেন এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক আক্রমণ শানান।

রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, মমতার এই বক্তব্য কেবল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাংলাদেশ প্রসঙ্গ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর দাবি সামনে আসায় বিষয়টি জাতীয় পর্যায়েও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসতে পারে।

এদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে মমতার বক্তব্যের পেছনে কী তথ্য রয়েছে, এবং তিনি আগামী দিনে এ বিষয়ে আরও কিছু প্রকাশ করেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ