দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত ৯৫ দিনে মোট ১ লাখ ৬৭৭ জন মানুষ হাম অথবা হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৬৬৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামে শনাক্ত হয়েছেন ১০ হাজার […]
দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত ৯৫ দিনে মোট ১ লাখ ৬৭৭ জন মানুষ হাম অথবা হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৬৬৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামে শনাক্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৭৭৩ জন। এছাড়া ৮৯ হাজার ৯০৪ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন বা আক্রান্ত হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছেন।
মৃত্যুর পরিসংখ্যানেও উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ৫৫৬ জন। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৬৬ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামজনিত উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট বিভাগেই মারা গেছেন ২ জন। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৪৮ জন।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এখানে হাম ও হামের উপসর্গে মারা গেছেন ২৯৭ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮ হাজার ৯০১ জন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা না গেলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। তাই অভিভাবকদের শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা দেওয়ার পাশাপাশি উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই পরিসংখ্যান ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে ১৮ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।