সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

খেলাধুলা
১:৩০ পিএম, ৬ জুলাই ২০২৬

হালান্ডের জোড়া গোলে ৩৬ বছর পর শেষ ষোলো থেকেই ব্রাজিলের বিদায়

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে ৩৬ বছরের এক তিক্ত রেকর্ডে নাম লেখাল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে বিদায় নিশ্চিত হওয়ার মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপের পর এই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল সেলেসাওরা। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ক্লদিও কানিজিয়ার একমাত্র গোলে […]

হালান্ডের জোড়া গোলে ৩৬ বছর পর শেষ ষোলো থেকেই ব্রাজিলের বিদায়

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে ৩৬ বছরের এক তিক্ত রেকর্ডে নাম লেখাল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে বিদায় নিশ্চিত হওয়ার মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপের পর এই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল সেলেসাওরা।

১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ক্লদিও কানিজিয়ার একমাত্র গোলে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল। এরপর টানা আটটি বিশ্বকাপেই তারা অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত খেলেছে। ১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২, ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২—প্রতিটি আসরেই শেষ আটে জায়গা করে নেওয়ার সেই ধারাবাহিকতা এবার ভেঙে দিল নরওয়ে।

ম্যাচজুড়ে বল দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল ব্রাজিলের। ১৪টি শট থেকে তাদের প্রত্যাশিত গোল (এক্সজি) ছিল ২.৭৩, যেখানে নরওয়ের ৯টি শটের এক্সজি ছিল মাত্র ০.৮৪। পরিসংখ্যান বলছিল জয় পাওয়ার কথা ব্রাজিলেরই। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন।

নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নাইল্যান্ড পুরো ম্যাচে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখান। ম্যাচের শুরুতেই তিনি ব্রুনো গিমারায়েসের নেওয়া পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন। পরে আরও কয়েকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে ব্রাজিলকে হতাশ করেন তিনি।

এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন আর্লিং হালান্ড। ম্যাচের শেষ ১১ মিনিটে জোড়া গোল করে তিনি ব্রাজিলের স্বপ্ন ভেঙে দেন। ৭৯তম মিনিটে দারুণ এক হেডে নরওয়েকে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচ প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন।

দুই গোলের ধাক্কায় স্তব্ধ হয়ে যায় মেটলাইফ স্টেডিয়ামে উপস্থিত ব্রাজিল সমর্থকেরা। অতিরিক্ত সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও সেটি কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে, ম্যাচে ফেরাতে পারেনি ব্রাজিলকে।

এই গোলের মাধ্যমে নেইমার পেলের পর দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবে চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়েন। ম্যাচ শেষে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণাও দেন।

এই পরাজয়ের পর ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তিকেও কঠিন সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। ব্রাজিল জাতীয় দলের ইতিহাসে প্রথম বিদেশি প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম বড় টুর্নামেন্ট। কিন্তু শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেওয়ায় তার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এদিকে নরওয়ে ঐতিহাসিক এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। আর ব্রাজিলকে অপেক্ষা করতে হবে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত। নতুন দল গঠন, নতুন পরিকল্পনা এবং নতুন স্বপ্ন নিয়ে তারা আবার ফিরবে। তবে ৩৬ বছর পর শেষ ষোলো থেকেই বিদায়ের এই হতাশা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সূত্র: ইত্তেফাক

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ