ইসরাইলের উত্তর সীমান্তে চলমান সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে কম খরচের কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর ফাইবার-অপটিক ড্রোন। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ বলছে, এই প্রযুক্তি ইসরাইলের প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা সামনে এনে দিয়েছে। হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত এসব ড্রোন মূলত তারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়, যা অপারেটরের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত থাকে। ফলে এগুলোকে ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মাধ্যমে অকার্যকর করা প্রায় […]
ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলের উত্তর সীমান্তে চলমান সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে কম খরচের কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর ফাইবার-অপটিক ড্রোন। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ বলছে, এই প্রযুক্তি ইসরাইলের প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা সামনে এনে দিয়েছে।
হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত এসব ড্রোন মূলত তারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়, যা অপারেটরের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত থাকে। ফলে এগুলোকে ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মাধ্যমে অকার্যকর করা প্রায় অসম্ভব। কারণ এগুলো কোনো রেডিও সিগন্যাল বা জিপিএসের ওপর নির্ভর করে না। এ কারণে ইসরাইলের উন্নত রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও অনেক ক্ষেত্রে এগুলো শনাক্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
খরচের দিক থেকেও এসব ড্রোন অত্যন্ত সাশ্রয়ী। সাধারণ যন্ত্রাংশ ও থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি হওয়ায় প্রতিটি ড্রোনের খরচ মাত্র কয়েকশ ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু কম খরচ হলেও এগুলোর আঘাত নির্ভুল—ট্যাংক, সাঁজোয়া যান কিংবা সেনা অবস্থান লক্ষ্য করে সহজেই হামলা চালাতে পারে।
ড্রোনগুলো অপারেটরকে সরাসরি ভিডিও ফিড সরবরাহ করে, যার ফলে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও আক্রমণ আরও নিখুঁত হয়। নিচু দিয়ে উড়তে পারা এবং হালকা কাঠামোর কারণে এগুলো রাডারের চোখ এড়িয়ে যেতে পারে, যা ইসরাইলি বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য—পাহাড়ি এলাকা, উপত্যকা ও গ্রামীণ পরিবেশ—এই ধরনের ড্রোন ব্যবহারের জন্য উপযোগী। স্বল্প দূরত্বে দ্রুত আঘাত হানার ক্ষেত্রে এগুলো কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হিজবুল্লাহর লক্ষ্য বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ নয়; বরং ইসরাইলি বাহিনীর গতিশীলতা কমানো, তাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা এবং অপারেশনাল ব্যয় বাড়ানো। এই কৌশল যুদ্ধক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে এই প্রযুক্তিরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ড্রোনের কার্যপরিসর তুলনামূলক কম, তার ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং দক্ষ অপারেটরের প্রয়োজন হয়। ফলে একে এককভাবে যুদ্ধ জয়ের হাতিয়ার হিসেবে দেখা যায় না।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইসরাইল এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে, যেখানে উন্নত শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা স্তর বৃদ্ধি এবং কৌশলগত অভিযোজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আধুনিক যুদ্ধ এখন শুধু বড় অস্ত্রের ওপর নির্ভর করছে না; বরং কম খরচে উন্নত প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের দিকেই ঝুঁকছে। হিজবুল্লাহর এই ড্রোন কৌশল সেই পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট উদাহরণ।