সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
১:০৮ পিএম, ২৫ মে ২০২৬

হোয়াইট হাউসের চাপেই পদত্যাগে বাধ্য হলেন তুলসী গ্যাবার্ড

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের পদ ছাড়ছেন তুলসী গ্যাবার্ড। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ট্রাম্পের নানা বিতর্কিত অবস্থান ও বক্তব্যের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বললেও শেষ পর্যন্ত ইরান ইস্যুতে মতবিরোধই তার পদত্যাগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তুলসী গ্যাবার্ড ২২ মে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তিনি […]

হোয়াইট হাউসের চাপেই পদত্যাগে বাধ্য হলেন তুলসী গ্যাবার্ড

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের পদ ছাড়ছেন তুলসী গ্যাবার্ড। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ট্রাম্পের নানা বিতর্কিত অবস্থান ও বক্তব্যের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বললেও শেষ পর্যন্ত ইরান ইস্যুতে মতবিরোধই তার পদত্যাগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তুলসী গ্যাবার্ড ২২ মে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৩০ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছাড়বেন। ব্যক্তিগতভাবে স্বামীর ক্যানসারের চিকিৎসা ও পরিবারের পাশে থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করলেও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, হোয়াইট হাউসের চাপই ছিল মূল কারণ।

ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে গত বছর থেকেই গ্যাবার্ডকে নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছিল। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তার অবস্থান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে। ট্রাম্প চাইছিলেন প্রশাসন প্রকাশ্যে এই বার্তা দিক যে ইরান দ্রুত পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতা অর্জন করছে। কিন্তু গ্যাবার্ড গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নের ভিত্তিতে বারবার বলেন, ইরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

২০২৫ সালের মার্চে কংগ্রেসে দেওয়া এক সাক্ষ্যে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইরান সক্রিয়ভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। এই মন্তব্যের পর ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিরক্তি দেখান। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সে কী বলেছে, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমার বিশ্বাস, তারা খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।”

এরপর থেকেই ধীরে ধীরে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও বৈঠক থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয় গ্যাবার্ডকে। ইরানসংক্রান্ত একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তাকে ডাকা হয়নি। এমনকি কংগ্রেসে দেওয়া কিছু গোপন নিরাপত্তা ব্রিফিং থেকেও তাকে বাদ রাখা হয়।

তুলসী গ্যাবার্ড বরাবরই বিদেশে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ইরাক যুদ্ধ, সরকার পরিবর্তনের অভিযান এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতির বিরোধিতা করে তিনি বহুবার বক্তব্য দিয়েছেন। প্রশাসনের কট্টরপন্থী অংশের কাছে এই অবস্থান তাকে ধীরে ধীরে অস্বস্তিকর ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।

জানা গেছে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার একটি গোপন পরিকল্পনা নিয়েও কাজ চলছিল। তবে সেই পরিকল্পনা থেকেও গ্যাবার্ডকে দূরে রাখা হয়। কারণ প্রশাসনের অনেকে মনে করতেন, বিদেশে সরকার পরিবর্তনের অভিযানের বিরুদ্ধে তার অবস্থান পরিকল্পনাটির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

এ সময় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের পরিচালক জো কেন্টও পদত্যাগ করেন। ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করে দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছিলেন, “বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে আমি এই যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারি না।”

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প নিজেকে যুদ্ধবিরোধী নেতা হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নতুন যুদ্ধ শুরু না করে বিদ্যমান সংঘাত কমানোর চেষ্টা করবেন। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে এসে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা বাড়ানোর কারণে তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

বিশ্লেষকদের মতে, তুলসী গ্যাবার্ড শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক ধরনের বিব্রতকর প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন। কারণ তিনি এমন একটি অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন, যা ট্রাম্পের আগের রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে মিল থাকলেও বর্তমান প্রশাসনিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠেছিল।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ), স্বাধীন বিশ্লেষক এবং মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, ইরান উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করলেও তারা এখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে দাবি করে আসছিল, ইরান খুব দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতার দিকে এগোচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে গ্যাবার্ডের সতর্ক ও তথ্যভিত্তিক অবস্থান হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তার দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।

শেষ পর্যন্ত দীর্ঘদিনের আনুগত্যও তাকে রক্ষা করতে পারেনি। ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অন্দরমহলে এখন আলোচনা হচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনে টিকে থাকতে শুধু অনুগত হলেই হয় না—প্রেসিডেন্টের অবস্থানের সঙ্গে নিঃশর্তভাবে একমত থাকাও জরুরি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ