প্রায় এক দশক আগে চুরি হয়ে যাওয়া প্রিয় আফ্রিকান গ্রে টিয়া পাখি ‘বার্নি’কে ফিরে পেয়েছেন ব্রিটিশ নাগরিক রবার্ট মর্টিমার। ২০১৭ সালে হারিয়ে যাওয়ার নয় বছর পর গ্রেটার ম্যানচেস্টারের একটি আইকিয়া স্টোরের পার্কিং এলাকা থেকে পাখিটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে শরীরে থাকা মাইক্রোচিপের তথ্যের মাধ্যমে তার আসল মালিকের সন্ধান পাওয়া যায়। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম […]
ছবি: সংগৃহীত
প্রায় এক দশক আগে চুরি হয়ে যাওয়া প্রিয় আফ্রিকান গ্রে টিয়া পাখি ‘বার্নি’কে ফিরে পেয়েছেন ব্রিটিশ নাগরিক রবার্ট মর্টিমার। ২০১৭ সালে হারিয়ে যাওয়ার নয় বছর পর গ্রেটার ম্যানচেস্টারের একটি আইকিয়া স্টোরের পার্কিং এলাকা থেকে পাখিটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে শরীরে থাকা মাইক্রোচিপের তথ্যের মাধ্যমে তার আসল মালিকের সন্ধান পাওয়া যায়।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ইত্তেফাক।
২০১৭ সালের আগস্টে ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের ব্র্যাডফোর্ডে রবার্ট মর্টিমারের বাড়িতে চুরি হয়। ওই ঘটনায় ল্যাপটপ ও বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির পাশাপাশি পরিবারের পোষা একটি কুকুরও মারা যায়। একই সময় নিখোঁজ হয় তাদের প্রিয় টিয়া পাখি বার্নি।
বার্নিকে খুঁজে পেতে পরিবারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন চেষ্টা করা হলেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সময়ের সঙ্গে পাখিটিকে আর ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন তারা।
সম্প্রতি গ্রেটার ম্যানচেস্টারের অ্যাশটন-আন্ডার-লাইনের একটি আইকিয়া স্টোরের গাড়ি পার্কিং এলাকায় বার্নিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। স্থানীয় এক পশুচিকিৎসক পাখিটিকে উদ্ধার করে একটি পশু উদ্ধারকেন্দ্রে নিয়ে যান।
পাখিটির শরীরে থাকা মাইক্রোচিপ পরীক্ষা করে উদ্ধারকেন্দ্রের কর্মীরা তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করেন। পরে ইন্টারনেটে পুরোনো সংবাদ প্রতিবেদন খুঁজে ২০১৭ সালের চুরির ঘটনার সঙ্গে পাখিটির তথ্যের মিল পাওয়া যায়। এরপর পুলিশের সহায়তায় রবার্ট মর্টিমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
হঠাৎ ফোন পেয়ে প্রথমে বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারেননি মর্টিমার। পরে উদ্ধারকেন্দ্রে গিয়ে নিজের পুরোনো পোষা পাখিটিকে শনাক্ত করেন তিনি এবং খাঁচায় করে বার্নিকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।
বর্তমানে ১৯ বছর বয়সী বার্নি নতুন পরিবেশের সঙ্গে আবারও মানিয়ে নিচ্ছে। সবচেয়ে আবেগঘন বিষয় হলো, দীর্ঘ নয় বছর পরও সে তার পুরোনো অভ্যাস ভুলে যায়নি। বাড়িতে ফিরে আবারও ‘হ্যালো’ ও ‘গুড মর্নিং’ বলা শুরু করেছে পাখিটি।
বার্নিকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত মর্টিমার বলেন, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি হারালে তা নতুন করে কেনা যায়, কিন্তু প্রিয় কোনো পোষা প্রাণীকে কখনো অন্য কিছু দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। দীর্ঘ নয় বছর পর বার্নির ফিরে আসা তাই তার পরিবারের জন্য বিশেষ এক আনন্দের মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।