আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির। গত আগস্টে হঠাৎ করেই স্থগিত হওয়া এই সফরটি এবার ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে আয়োজনের লক্ষ্যে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা চলছে। এই সফর সফল হলে এটি হবে গত ২৪ বছরে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ঢাকা সফর এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ইতালির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ […]
আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির। গত আগস্টে হঠাৎ করেই স্থগিত হওয়া এই সফরটি এবার ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে আয়োজনের লক্ষ্যে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা চলছে। এই সফর সফল হলে এটি হবে গত ২৪ বছরে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ঢাকা সফর এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ইতালির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করবে।
১৯৯৮ সালে ইতালির তখনকার প্রধানমন্ত্রী রোমানো প্রোদি ঢাকায় সফর করেছিলেন, যা ছিল দুই দেশের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর শ্রেনীর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। এরপর দীর্ঘ সময় পার হয়ে এবার জর্জিয়া মেলোনির আসা বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
সফরের পেছনের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব
গত ৩০ আগস্ট জর্জিয়া মেলোনির পূর্বনির্ধারিত সফরটি শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে যায়। এর পেছনে মূল কারণ ছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৃষ্ট জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, যা ইতালিসহ অনেক দেশের বিদেশ নীতি ও কূটনৈতিক সফরে প্রভাব ফেলেছে। ওই সময় তার এশিয়ার পাঁচটি দেশ সফরের মধ্যে বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সফর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বাংলাদেশের জন্য এই সফরের গুরুত্ব বহুমাত্রিক। প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে, যা দুই দেশের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও সামাজিক ইস্যু। পাশাপাশি বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিস্তারে নতুন আলোচনা সম্ভাবনা রয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বার্থে সম্ভাব্য আলোচ্য বিষয়সমূহ
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এই সফর ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কোনো নেতার প্রথম ঢাকা সফর হিসেবে রেকর্ড হবে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের বৈঠক হয়, যেখানে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
এছাড়া, ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাতেও পিয়ান্তেদোসির গত মে মাসের ঢাকা সফরের সময় জর্জিয়া মেলোনির সফর নিয়ে আলোচনা হয়, যা সফরের নিশ্চয়তা বহন করে। প্রধান উপদেষ্টা সম্প্রতি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য রোম সফর করেছেন, যা দুই দেশের সহযোগিতার পরিধি আরও প্রসারিত করার ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশ ও ইতালির ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা
এবারের সফর বাংলাদেশের জন্য কেবলমাত্র কূটনৈতিক সাফল্য নয়, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ইতালির সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ। নিরাপদ অভিবাসন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
বিশ্বের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইতালির সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্য এক বিশাল অর্জন হবে। এছাড়া, এই সফর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মর্যাদা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।