কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার পথে কুমিল্লার একটি রেস্টুরেন্টে ভুলবশত ফেলে যাওয়া পাকিস্তানি এক শিশুকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা, প্রশাসনের সহযোগিতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত প্রচারের ফলে শিশুটি নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে যায়। শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে শিশুটিকে তার বাবার কাছে […]
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার পথে কুমিল্লার একটি রেস্টুরেন্টে ভুলবশত ফেলে যাওয়া পাকিস্তানি এক শিশুকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা, প্রশাসনের সহযোগিতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত প্রচারের ফলে শিশুটি নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে যায়।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে শিশুটিকে তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শিশুটির নাম নাফিসা। তার বাবা সালমান পাকিস্তানের নাগরিক। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি বাংলাদেশ সফরে এসেছেন এবং দুটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করছিলেন। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পরিবারটি বাংলাদেশে আসে।
১১ সদস্যের এই পরিবারটি শনিবার ভোরে দুটি গাড়িতে করে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের উদ্দেশে রওনা দেয়। পথে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তফাপুর এলাকায় অবস্থিত জাইতুন রেস্টুরেন্টে নাশতার জন্য যাত্রাবিরতি করেন তারা।
নাশতা শেষে পরিবারটি পুনরায় কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলেও অসাবধানতাবশত ছোট্ট নাফিসাকে রেস্টুরেন্টেই রেখে চলে যায়। পরিবারের কেউ বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে খেয়াল করেননি।
রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিবারের সদস্যরা চলে যাওয়ার পর শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে কর্মচারীরা দ্রুত তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। মোবাইল ফোনে খেলা দেখিয়ে এবং বিভিন্নভাবে তাকে ব্যস্ত রেখে তারা শিশুটিকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেন।
একই সঙ্গে রেস্টুরেন্টের ফেসবুক পেজে ঘটনাটি জানিয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সদর দক্ষিণ থানাকেও অবহিত করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক সাড়া ফেলে।
রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পরিবারটির ১১ জন সদস্য এবং দুই গাড়ির চালকসহ মোট অন্তত ১৪ জন ব্যক্তি দুটি গাড়িতে করে সেখানে আসেন এবং একসঙ্গে নাশতা করেন। নাশতার সময় তারা গল্প-আড্ডায় ব্যস্ত ছিলেন। পরে রেস্টুরেন্ট ত্যাগ করার সময় ভুলবশত শিশুটিকে ভেতরেই রেখে চলে যান।
জাইতুন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী এ কে এম লুৎফুর রহমান জানান, দুটি গাড়ির একটিতে শিশুটির বাবা এবং অন্যটিতে তার মা ছিলেন। ফলে শিশুটির মা ভেবেছিলেন নাফিসা তার বাবার সঙ্গে রয়েছে, আর বাবা মনে করেছিলেন সে মায়ের সঙ্গেই আছে।
তিনি আরও জানান, পরিবারটি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল অতিক্রম করার পর চা-পানের জন্য যাত্রাবিরতি দিলে তখন তারা বুঝতে পারেন যে শিশুটি তাদের সঙ্গে নেই। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া পোস্টটি তাদের নজরে আসে।
পরে তারা রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ভিডিও কলের মাধ্যমে শিশুটির সঙ্গে কথা বলেন। এরপর শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তারা কুমিল্লায় ফিরে এসে প্রশাসনের উপস্থিতিতে শিশুটিকে নিজেদের কাছে গ্রহণ করেন।
রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পাকিস্তানের করাচি থেকে আসা পরিবারটি ১১ সদস্য নিয়ে বাংলাদেশ সফরে এসেছে। তারা মোট ১২ দিন বাংলাদেশে অবস্থান করবেন এবং কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
স্থানীয়দের মতে, রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগের কারণেই শিশুটিকে অল্প সময়ের মধ্যেই নিরাপদে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।