নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকে গ্রেপ্তার করে কিউবায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের গুয়ানতানামো বে সামরিক কারাগারে পাঠানোর মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন আলাবামা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল। তার এই বক্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন, বিভাজনমূলক এবং মুসলিমবিদ্বেষী বলে আখ্যা দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা ও বিভিন্ন নাগরিক অধিকারকর্মী। রক্ষণশীল ধারার উপস্থাপক বেনি জনসনের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে টিউবারভিল দাবি […]
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকে গ্রেপ্তার করে কিউবায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের গুয়ানতানামো বে সামরিক কারাগারে পাঠানোর মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন আলাবামা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল। তার এই বক্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন, বিভাজনমূলক এবং মুসলিমবিদ্বেষী বলে আখ্যা দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা ও বিভিন্ন নাগরিক অধিকারকর্মী।
রক্ষণশীল ধারার উপস্থাপক বেনি জনসনের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে টিউবারভিল দাবি করেন, জোহরান মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হতে পারেন। তিনি বলেন, তাকে গ্রেপ্তার করে গুয়ানতানামোতে পাঠানো উচিত। তবে এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
এটি প্রথমবার নয়, এর আগেও টিউবারভিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলায় ধ্বংস হওয়া ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের যমজ ভবনের একটি ছবি এবং জোহরান মামদানির একটি ইফতার অনুষ্ঠানের ছবি পাশাপাশি প্রকাশ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “শত্রু এখন আমাদের ভেতরেই রয়েছে।” পোস্টটি প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনা হয় এবং অনেকেই এটিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
সিনেটরের সর্বশেষ মন্তব্যের জবাবে জোহরান মামদানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে বিভাজন সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন সংকট ও অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে কিছু রাজনীতিক ঘৃণা ও ভয়কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
মার্কিন সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলের নেতা চাক শুমারও টিউবারভিলের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্য শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিকদের প্রতিও অসম্মানজনক। তার ভাষায়, ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে রাজনৈতিক লাভের চেষ্টা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
এদিকে নাগরিক অধিকারবিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, কোনো জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়া এমন বক্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক বিভাজনকে আরও উসকে দিতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন, ধর্মীয় পরিচয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু ঘিরে বিভাজন ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
এ বিষয়ে টমি টিউবারভিলের কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত কোনো ব্যাখ্যা বা বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র: আমেরিকা বাংলা, যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য