বলিউড অভিনেত্রী টাবুর নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর, অবয়ব ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অনুমতি ছাড়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। একই সঙ্গে অভিনেত্রীকে ঘিরে অননুমোদিত ও আপত্তিকর কনটেন্ট থাকা বিপুলসংখ্যক ইউআরএল সরিয়ে ফেলা অথবা সেগুলোতে প্রবেশাধিকার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। টাবুর করা আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি জ্যোতি সিং এই অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেন। গুগল, মেটা, এক্স […]
ছবি: সংগৃহীত
বলিউড অভিনেত্রী টাবুর নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর, অবয়ব ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অনুমতি ছাড়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। একই সঙ্গে অভিনেত্রীকে ঘিরে অননুমোদিত ও আপত্তিকর কনটেন্ট থাকা বিপুলসংখ্যক ইউআরএল সরিয়ে ফেলা অথবা সেগুলোতে প্রবেশাধিকার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
টাবুর করা আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি জ্যোতি সিং এই অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেন। গুগল, মেটা, এক্স ও রেডিটসহ বড় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ডোমেইন ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকেও আদালতের নির্দেশের আওতায় আনা হয়েছে।
আবেদনে টাবু অভিযোগ করেন, তার পরিচয় ও ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য অনুমতি ছাড়া অনলাইনে ব্যবহার করে বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে তার নামে ভুয়া ইভেন্ট বুকিং অ্যাকাউন্ট তৈরি, অনুমতি ছাড়া পণ্য বিক্রি এবং তার নামে মনগড়া বক্তব্য প্রচার।
এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তার ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট বিকৃত করে অশ্লীল উপাদান তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেন অভিনেত্রী।
আদালত গুগল, মেটা, এক্স ও রেডিটসহ সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে টাবুকে ঘিরে থাকা অননুমোদিত ও আপত্তিকর কনটেন্ট শনাক্ত করে তা সরিয়ে ফেলতে অথবা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ওই কনটেন্টে প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
একই সঙ্গে কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম ও ডোমেইন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট বা কনটেন্টের সঙ্গে যুক্ত বেসিক সাবস্ক্রাইবার তথ্য এবং আইপি লগ আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, টাবুর নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর, অবয়ব ও ব্যক্তিত্বের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য ইতোমধ্যে স্বতন্ত্র পরিচিতি অর্জন করেছে। সাধারণ মানুষ এসব বৈশিষ্ট্য দেখলেই সেগুলোকে টাবুর সঙ্গে সম্পৃক্ত করেন।
বিচারপতি জ্যোতি সিং বলেন, নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য টাবু প্রাথমিকভাবে একটি শক্তিশালী মামলা উপস্থাপন করেছেন। মামলায় সুবিধা-অসুবিধার ভারসাম্যও তার পক্ষেই রয়েছে বলে আদালত মনে করেন।
আদালতের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা না দেওয়া হলে অভিনেত্রীর অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দিল্লি হাইকোর্ট আরও বলেন, কোনো বিখ্যাত ব্যক্তির নাম, ছবি বা অন্যান্য স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা হলে তা তার অধিকার লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়তে পারে। এর মাধ্যমে ওই ব্যক্তির স্বতন্ত্র পরিচিতির স্বাতন্ত্র্য ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষ অনৈতিকভাবে বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পায়।
টাবুর মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তার সিনেমা, সাক্ষাৎকার এবং জনসমক্ষে উপস্থিতির বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে এআইয়ের মাধ্যমে বিকৃত অশ্লীল ছবি, ভিডিও ও জিআইএফ তৈরি করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এসব অননুমোদিত ব্যবহার বন্ধ এবং নিজের পরিচয় ও ব্যক্তিসত্তার সুরক্ষায় আইনি প্রতিকার চেয়েছিলেন অভিনেত্রী। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই দিল্লি হাইকোর্ট তার পক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা জারি করেছেন।