সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

USCIS
৪:৫৫ অপরাহ্ন, ১৯ আগস্ট ২০২৬

১৮ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রিন কার্ড আবেদনে বদলাচ্ছে ‘পাবলিক চার্জ’ নিয়ম, বাড়ছে সরকারি সুবিধা যাচাই

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ‘পাবলিক চার্জ’ সংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তন আনছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। নতুন নিয়ম আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। ওই দিন বা তার পর ডাকযোগে পাঠানো কিংবা অনলাইনে জমা দেওয়া ফর্ম আই-৪৮৫ আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন কাঠামো প্রযোজ্য হবে। নতুন নিয়মে ২০২২ সালের পাবলিক চার্জ বিধিমালা বাতিল করে অভিবাসন কর্মকর্তাদের আবেদনকারীর […]

১৮ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রিন কার্ড আবেদনে বদলাচ্ছে ‘পাবলিক চার্জ’ নিয়ম, বাড়ছে সরকারি সুবিধা যাচাই

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ‘পাবলিক চার্জ’ সংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তন আনছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। নতুন নিয়ম আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। ওই দিন বা তার পর ডাকযোগে পাঠানো কিংবা অনলাইনে জমা দেওয়া ফর্ম আই-৪৮৫ আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন কাঠামো প্রযোজ্য হবে।

নতুন নিয়মে ২০২২ সালের পাবলিক চার্জ বিধিমালা বাতিল করে অভিবাসন কর্মকর্তাদের আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনার জন্য আরও বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে কোনো আবেদনকারী সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে কি না, তা নির্ধারণে কর্মকর্তারা আরও বিস্তৃত তথ্য ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে পারবেন।

কোন বিষয়গুলো দেখা হবে

অভিবাসন কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নে আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, সম্পদ ও আর্থিক সক্ষমতা এবং শিক্ষা ও দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে থাকবে। এর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ফর্ম আই-৮৬৪ বা অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্টও বিবেচনা করা হবে। কর্মকর্তারা এসব বিষয় আলাদাভাবে নয়, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবেন।

সরকারি সুবিধা নিলে কী হবে?

নতুন নিয়মে ১৮ সেপ্টেম্বরের পর সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি আগের তুলনায় বিস্তৃতভাবে বিবেচিত হতে পারে। তবে কোন কোন সুবিধা ঠিক কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা এখনো প্রকাশিত হয়নি। নতুন নিয়মে DHS জানিয়েছে, ভবিষ্যৎ নির্দেশনায় means-tested বা আয় ও সম্পদের ওপর নির্ভরশীল সরকারি সুবিধা বিবেচনার সুযোগ থাকবে।

অর্থাৎ ফুড স্ট্যাম্প, আবাসন সহায়তা বা অন্যান্য সরকারি সুবিধা নিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ডের আবেদন বাতিল হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। বরং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এসব সুবিধা আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নিউইয়র্কের লিগ্যাল এইড সোসাইটি জানিয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বরের আগে নেওয়া means-tested সুবিধা নতুন নিয়মে সাধারণভাবে বিবেচিত হবে না; তবে নগদ সহায়তা ও সরকারি খরচে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসাসেবা আগের নিয়ম অনুযায়ী বিবেচিত হতে পারে।

পরিবারের সদস্যের সুবিধাও নজরে আসতে পারে

নতুন কাঠামোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের পাওয়া means-tested সুবিধাও মূল্যায়নের অংশ হতে পারে। বর্তমানে কার্যকর ২০২২ সালের নিয়মে পরিবারের অন্য সদস্যের সরকারি সুবিধা সাধারণভাবে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে ধরা হতো না। নতুন নিয়ম এই সুরক্ষা সরিয়ে দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রয়োগপদ্ধতি জানাতে DHS-এর আরও নির্দেশনা প্রয়োজন।

কারা এই নিয়মের বাইরে

সব অভিবাসী এই নিয়মের আওতায় পড়বেন না। মার্কিন নাগরিক ও নাগরিকত্বের আবেদনকারীরা পাবলিক চার্জ বিধির আওতাভুক্ত নন। একইভাবে শরণার্থী ও অ্যাসাইলামপ্রাপ্ত ব্যক্তি, বিশেষ অভিবাসী কিশোর-কিশোরী, ভিসা ও কিছু মানবিক কর্মসূচির নির্দিষ্ট শ্রেণির আবেদনকারীও ছাড়ের আওতায় রয়েছেন।

বর্তমান গ্রিন কার্ডধারীরাও সাধারণভাবে শুধু সরকারি সুবিধা নেওয়ার কারণে পাবলিক চার্জ নিয়মের আওতায় পড়েন না। তবে ১৮০ দিনের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকার পর দেশে ফেরার মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ভিন্ন আইনি বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।

পাবলিক চার্জ বন্ডের সুযোগ

নতুন নিয়মে পাবলিক চার্জ বন্ড সংক্রান্ত বিধানও সংশোধন করা হয়েছে। কোনো আবেদনকারীকে কেবল পাবলিক চার্জের ভিত্তিতে অগ্রহণযোগ্য মনে করা হলে এবং কর্মকর্তার কাছ থেকে বন্ড দেওয়ার সুযোগ পেলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে আর্থিক গ্যারান্টি জমা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে।

তবে বন্ডের সুযোগ পাওয়া সবার জন্য স্বয়ংক্রিয় নয়। এটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতি, আবেদনকারীর যোগ্যতা এবং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

১৮ সেপ্টেম্বরের আগে-পরের আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার তারিখটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর আগে জমা দেওয়া আই-৪৮৫ আবেদন ২০২২ সালের নিয়ম অনুযায়ী বিবেচিত হবে, আর ওই তারিখ বা পরে জমা দেওয়া আবেদন নতুন কাঠামোর আওতায় পড়বে।

তবে সরকারি সুবিধা নেওয়া নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে হঠাৎ কোনো সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়নি। লিগ্যাল এইড সোসাইটিও বলেছে, আগে যাচাই করতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে পাবলিক চার্জ নিয়ম আদৌ প্রযোজ্য কি না এবং প্রয়োজন হলে অভিবাসন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

সব মিলিয়ে, ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড আবেদনে আর্থিক সক্ষমতা ও সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি আগের তুলনায় বিস্তৃতভাবে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে ঠিক কোন সুবিধা কীভাবে বিবেচিত হবে, সে বিষয়ে DHS-এর বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত প্রভাব পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

তথ্যসূত্র: ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ