মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর গ্রিন কার্ড পেতে যে ৬ শর্ত পূরণ করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী মারা গেলে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জীবিত স্বামী বা স্ত্রী নিজে আবেদন করে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সাধারণত ফর্ম আই-৩৬০ ব্যবহার করতে হয়। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, মৃত স্বামী […]
প্রতীকী ছবি
মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর গ্রিন কার্ড পেতে যে ৬ শর্ত পূরণ করতে হবে
যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী মারা গেলে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জীবিত স্বামী বা স্ত্রী নিজে আবেদন করে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সাধারণত ফর্ম আই-৩৬০ ব্যবহার করতে হয়। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, মৃত স্বামী বা স্ত্রীর নাগরিকত্ব, বৈবাহিক সম্পর্ক, পুনর্বিবাহ এবং আবেদনের সময়সীমাসহ কয়েকটি বিষয় পূরণ করা জরুরি।
প্রথম শর্ত হলো, মৃত্যুর সময় স্বামী বা স্ত্রীকে মার্কিন নাগরিক হতে হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী নাগরিক, বিদেশে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিকের সন্তান হিসেবে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তি অথবা স্বাভাবিকীকরণের মাধ্যমে নাগরিক হওয়া ব্যক্তি—যেকোনো একটি শ্রেণির হতে পারেন।
মৃত ব্যক্তির নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য জন্মসনদ, নাগরিকত্বের সনদ বা বৈধ মার্কিন পাসপোর্টের মতো নথি প্রয়োজন হতে পারে।
আবেদনকারী ও মৃত মার্কিন নাগরিকের মধ্যে আইনগতভাবে বৈধ বিবাহ থাকতে হবে। এ জন্য সাধারণত বিবাহের সনদ জমা দিতে হয়।
আবেদনকারী বা মৃত ব্যক্তি আগে অন্য কোনো বিবাহে আবদ্ধ থাকলে সেই বিবাহ আইনগতভাবে শেষ হয়েছে—এমন প্রমাণও প্রয়োজন হতে পারে।
মৃত্যুর সময় আবেদনকারী ও মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রী আইনগতভাবে আলাদা থাকলে এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় আবেদন করতে সমস্যা হতে পারে। ফর্ম আই-৩৬০-এ এ বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য চাওয়া হয়।
অর্থাৎ, শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহিত থাকা যথেষ্ট নয়; মৃত্যুর সময় দাম্পত্য সম্পর্কের আইনগত অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর আবেদনকারী অন্য কাউকে বিয়ে করলে মৃত স্বামীর বা স্ত্রীর ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নষ্ট হতে পারে।
তাই আবেদন করার সময় পুনর্বিবাহ না করা এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
ইউএসসিআইএসের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে মৃত মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর দুই বছরের মধ্যে ফর্ম আই-৩৬০ জমা দিতে হয়।
অর্থাৎ, মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে আবেদন করলে এই বিশেষ বিধানের আওতায় গ্রিন কার্ডের সুযোগ নাও থাকতে পারে।
শেষ শর্ত হলো, বৈবাহিক সম্পর্কটি প্রকৃত হতে হবে। শুধু অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিয়ে করা হয়েছিল বলে প্রমাণিত হলে আবেদন গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।
এর পাশাপাশি আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের অন্যান্য প্রযোজ্য যোগ্যতাও পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ, শুধু মৃত স্বামী বা স্ত্রীর মার্কিন নাগরিকত্ব এবং বৈধ বিবাহ থাকলেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না।
মৃত মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রীর পক্ষ থেকে আগে ফর্ম আই-১৩০ জমা দেওয়া হয়ে থাকলে এবং সেটি অনুমোদিত বা বিচারাধীন অবস্থায় থাকলে, কিছু ক্ষেত্রে সেই আবেদনকে বিধবা বা বিপত্নীক স্বামী-স্ত্রীর ফর্ম আই-৩৬০ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। ফলে সব ক্ষেত্রে নতুন করে আই-৩৬০ জমা দেওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যোগ্য আবেদনকারীরা পরিস্থিতি অনুযায়ী ফর্ম আই-৪৮৫ ব্যবহার করে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। আই-৩৬০ অনুমোদনের পর যোগ্য বিধবা বা বিপত্নীক স্বামী-স্ত্রীর জন্য অভিবাসন ভিসার ব্যবস্থাও রয়েছে।
তবে ছয়টি শর্ত পূরণ করলেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীর আগের অভিবাসন ইতিহাস, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পরিস্থিতি, অপরাধমূলক রেকর্ডসহ অন্যান্য আইনগত বিষয়ও বিবেচনা করা হতে পারে।
তাই বাস্তবে আবেদন করার আগে ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ নিয়ম ও নিজের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।