মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পৃথিবীতে আগমন মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। তিনি বিশ্বজগতের জন্য রহমত বা করুণা হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর আগমনের স্মরণে মুসলমানদের দায়িত্ব কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে কোরআন-হাদিসের আলোকে নানা শিক্ষা পাওয়া যায়। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী (সা.) ‘হাতির বছরে’ জন্মগ্রহণ করেন। এ বছরই আবরাহা হাতি নিয়ে কাবাঘর ধ্বংসের উদ্দেশ্যে মক্কায় […]
ছবি: সংগৃহীত
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পৃথিবীতে আগমন মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। তিনি বিশ্বজগতের জন্য রহমত বা করুণা হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর আগমনের স্মরণে মুসলমানদের দায়িত্ব কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে কোরআন-হাদিসের আলোকে নানা শিক্ষা পাওয়া যায়।
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী (সা.) ‘হাতির বছরে’ জন্মগ্রহণ করেন। এ বছরই আবরাহা হাতি নিয়ে কাবাঘর ধ্বংসের উদ্দেশ্যে মক্কায় আক্রমণ করেছিল। সাহাবি কায়েস ইবনে মাখরামা (রা.) বলেন, তিনি ও রাসুলুল্লাহ (সা.) দুজনেই ‘হাতির বছরে’ জন্মগ্রহণ করেছেন। (তিরমিজি : ৩৬১৯)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মবার ছিল সোমবার। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সোমবারে জন্মগ্রহণ করেন, সোমবারেই নবুয়ত লাভ করেন, সোমবারে ইন্তেকাল করেন, সোমবার মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনার উদ্দেশে রওনা হন, সোমবার মদিনায় পৌঁছান এবং সোমবারেই হাজরে আসওয়াদ উত্তোলন করেন। (মুসনাদে আহমাদ : ২৫০৬)
নবুয়ত লাভের পর মহানবী (সা.) প্রতি সোমবার রোজা রাখতেন। এ বিষয়ে সাহাবি আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনেই আমি নবুয়ত লাভ করেছি।’ (সহিহ মুসলিম : ১১৬২)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, নিজের জন্মের দিনটির প্রতি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর স্মরণ ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ ছিল ইবাদতের মাধ্যমে। তিনি সোমবার রোজা রাখতেন। তাই মহানবী (সা.)-এর আগমনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে তাঁর অনুসরণে সোমবার রোজা রাখা যেতে পারে।
তবে তাঁর জন্মদিনকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বিশেষ কোনো ঈদ বা উৎসব পালনের নির্দেশ তাঁর শরিয়তে পাওয়া যায় না। বরং হাদিসের বিভিন্ন শিক্ষা থেকে বোঝা যায়, তাঁর জন্মের সঙ্গে সম্পর্কিত স্মরণকে ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে প্রকাশ করাই গুরুত্বপূর্ণ।
এর একটি দিক হলো, মহানবী (সা.) তাঁর জন্মদিন হিসেবে সপ্তাহের সোমবারকে গুরুত্ব দিয়েছেন; বার্ষিক কোনো নির্দিষ্ট তারিখকে নয়। অন্যদিকে জন্মদিনে তাঁর আমল ছিল রোজা রাখা। আর ইসলামী শিক্ষায় রোজা ও ঈদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, নবীজি (সা.) শনিবার ও রোববারে সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি রোজা রাখতেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলতেন, ওই দুই দিন মুশরিকদের ঈদ ও আনন্দের দিন। তাই তিনি তাদের বিরোধিতা করতে চেয়েছেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান : ৩৬১৬)
এসব হাদিসের আলোকে একজন মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসাকে শুধু আবেগে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁর জীবন ও শিক্ষাকে অনুসরণ করা। তিনি যে শরিয়ত নিয়ে এসেছেন, তা ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করাই তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার প্রকৃত প্রকাশ।
তাই মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মহানবী (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও সুন্নাহ সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নিজের আমল ও চরিত্রকে তাঁর শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার চেষ্টা করা উচিত। আবেগের পরিবর্তে তাঁর নির্দেশনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং জীবনব্যাপী তাঁর আনীত শরিয়ত মেনে চলাই উম্মতের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।