পরিপূর্ণ মুমিন হতে হলে হারাম থেকে বেঁচে থাকা, আল্লাহর দেওয়া রিজিকে সন্তুষ্ট থাকা, প্রতিবেশীর হক আদায় করা এবং উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া জরুরি বলে জানিয়েছেন দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি আবুল কাসেম নোমানী। শুক্রবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজের আগে দেওয়া বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন। বয়ানের শুরুতে আল্লামা নোমানী […]
ছবি: সংগৃহীত
পরিপূর্ণ মুমিন হতে হলে হারাম থেকে বেঁচে থাকা, আল্লাহর দেওয়া রিজিকে সন্তুষ্ট থাকা, প্রতিবেশীর হক আদায় করা এবং উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া জরুরি বলে জানিয়েছেন দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি আবুল কাসেম নোমানী।
শুক্রবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজের আগে দেওয়া বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন।
বয়ানের শুরুতে আল্লামা নোমানী হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) একবার সাহাবিদের এমন কিছু বিষয় গ্রহণ করে তা নিজেরা আমল ও অন্যদের শেখানোর আহ্বান জানান। তখন হজরত আবু হুরায়রা (রা.) প্রস্তুতির কথা জানালে রাসুলুল্লাহ (স.) তাকে পাঁচটি বিষয় শিক্ষা দেন।
আল্লামা নোমানীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম বিষয় হলো হারাম থেকে বেঁচে থাকা। আল্লাহ তাআলা কিছু বিষয় হালাল এবং কিছু বিষয় হারাম করেছেন। তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে হারাম থেকে দূরে থাকা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। নিষিদ্ধ কোনো কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা অনেক সময় কাজটি করার চেয়েও কঠিন হওয়ায় হারাম বর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় বিষয় হলো আল্লাহর দেওয়া রিজিকে সন্তুষ্ট থাকা। তার মতে, এতে মানুষ প্রকৃত অর্থে ধনী হতে পারে। বাহ্যিক সম্পদের চেয়ে অন্তরের তৃপ্তিই মানুষের প্রকৃত সম্পদ।
তৃতীয় বিষয় হলো প্রতিবেশীর হক আদায় করা। প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচরণ ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এমন আচরণ করা উচিত, যাতে প্রতিবেশী মানুষের হাত ও কথা থেকে নিরাপদ থাকে।
চতুর্থ বিষয় হলো নিজের জন্য যা পছন্দ করা হয়, অন্যের জন্যও তা পছন্দ করা। অন্যের সুখ-দুঃখ, সুবিধা-অসুবিধা ও পছন্দ-অপছন্দের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া একজন ভালো মুসলমানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মানুষের কথা ও কাজের মাধ্যমে অন্য কেউ যেন কষ্ট না পায়, সেদিকেও খেয়াল রাখার আহ্বান জানান তিনি।
পঞ্চম বিষয় হিসেবে তিনি অতিরিক্ত হাসি-তামাশা থেকে বিরত থাকার কথা বলেন। অতিরিক্ত হাসি অন্তরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে উল্লেখ করে তিনি অপ্রয়োজনীয় হাসি-তামাশায় সময় নষ্ট না করে আল্লাহর জিকির ও আত্মশুদ্ধির কাজে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।
আল্লামা নোমানী বলেন, হাদিসে বর্ণিত এসব বিষয় জীবনে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একজন মানুষ নিজের চরিত্র ও ঈমানকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারেন এবং উত্তম মুসলিম হওয়ার পথে এগিয়ে যেতে পারেন।