সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
১:৪৬ পিএম, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘কী স্টুপিড প্রশ্ন’, ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা তিনি বাদ দিয়েছেন কি না—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রশ্নটিকে ‘স্টুপিড’ বা বোকা প্রশ্ন বলে মন্তব্য করে তিনি জানান, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ইতোমধ্যেই অনেকটাই ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করছেন তিনি। তাই দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন দেখছেন না। সোমবার (৩১ আগস্ট) […]

‘কী স্টুপিড প্রশ্ন’, ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা তিনি বাদ দিয়েছেন কি না—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রশ্নটিকে ‘স্টুপিড’ বা বোকা প্রশ্ন বলে মন্তব্য করে তিনি জানান, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ইতোমধ্যেই অনেকটাই ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করছেন তিনি। তাই দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন দেখছেন না।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়, ইরানের ওপর পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনা তিনি পুরোপুরি বাদ দিয়েছেন কি না। জবাবে প্রথমে বিরক্তি প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প বলেন, তিনি হয়তো প্রশ্নটির উত্তরই দিতেন না। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা তিনি বাদ দিয়েছেন। তার ভাষ্য, ইরান সামরিকভাবে পুরোপুরি পরাজিত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এমন পরিস্থিতিতে একই দেশের ওপর আবার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রশ্ন তোলাকে তিনি অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন।

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের বিভিন্ন পর্যায়ে অবশ্য ট্রাম্প এর আগে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। সে কারণে সর্বশেষ মন্তব্যে তার অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ইরানকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বললেন ট্রাম্প

একই সময় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত সীমিত সামরিক অভিযানেই থাকবে, নাকি তা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিতে পারে—এমন প্রশ্নও করা হয় ট্রাম্পকে।

জবাবে ইরানের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে দেশটিকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দেন তিনি। ট্রাম্প দাবি করেন, দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ৩৫০ শতাংশে পৌঁছেছে এবং ইরানি মুদ্রার কার্যত কোনো মূল্য নেই।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, ইরান তার সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বেতন পরিশোধ করতে পারছে না। দেশটির বেশিরভাগ শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের নৌবাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বিমানবাহিনীরও বড় অংশ আর কার্যকর অবস্থায় নেই। দেশটির নজরদারি ব্যবস্থার সক্ষমতাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে এসব দাবির পরও সামরিক অভিযান পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা দেননি ট্রাম্প। বরং পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, তা দেখার কথা বলেন তিনি।

ফেব্রুয়ারি থেকে সংঘাত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর প্রায় ৪০ দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি সংঘাত চলে। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। সাম্প্রতিক সময়ে সরাসরি হামলার মাত্রা কিছুটা কম থাকলেও গত রোববার আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লারাক দ্বীপে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পর ইরান জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

এর মধ্যেই ট্রাম্পের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করার বক্তব্য সামনে এলো। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও অর্থনীতি নিয়ে তার কঠোর মন্তব্য দুই দেশের চলমান সংঘাত আরও কোন দিকে গড়াবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ