সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
২:০৬ পিএম, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২৫০ দিন সাগরে, অবশেষে থাইল্যান্ডে নোঙর করল মার্কিন বিমানবাহী রণতরি

টানা ২৫০ দিন সমুদ্রে। যুদ্ধের প্রস্তুতি, দীর্ঘসময় বাড়ির বাইরে থাকা আর একটানা দায়িত্ব পালনের পর অবশেষে কিছুটা স্বস্তির সুযোগ পেল মার্কিন নৌবাহিনীর প্রায় পাঁচ হাজার সদস্য। পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন থাইল্যান্ডের উপকূলীয় শহর পাত্তায়ায় নোঙর করেছে। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার পর নাবিকদের বিশ্রাম দিতেই এই বিরতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) […]

২৫০ দিন সাগরে, অবশেষে থাইল্যান্ডে নোঙর করল মার্কিন বিমানবাহী রণতরি

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

টানা ২৫০ দিন সমুদ্রে। যুদ্ধের প্রস্তুতি, দীর্ঘসময় বাড়ির বাইরে থাকা আর একটানা দায়িত্ব পালনের পর অবশেষে কিছুটা স্বস্তির সুযোগ পেল মার্কিন নৌবাহিনীর প্রায় পাঁচ হাজার সদস্য।

পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন থাইল্যান্ডের উপকূলীয় শহর পাত্তায়ায় নোঙর করেছে। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার পর নাবিকদের বিশ্রাম দিতেই এই বিরতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সান ডিয়েগো থেকে যাত্রা, এরপর বদলে গেল গন্তব্য

ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করে। শুরুতে রণতরিটিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন রাখার পরিকল্পনা ছিল।

কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হলে পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আসে। রণতরিটিকে সরিয়ে নেওয়া হয় মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় এলাকায়।

এরপর থেকেই টানা দীর্ঘ সময় সমুদ্রসীমায় অবস্থান করতে হয়েছে জাহাজটিতে থাকা সদস্যদের।

দীর্ঘ এই মোতায়েন নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে খাদ্যসংকট এবং নাবিকদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তাও নিশ্চিত করা হয়েছে।

ভিয়েতনাম যুদ্ধের স্মৃতি ফিরছে পাত্তায়ায়

পাত্তায়া শহরের সঙ্গে মার্কিন সেনাদের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ও বিশ্রাম নেওয়ার জন্য মার্কিন সেনারা এই শহরে আসতেন।

সেই সময়ের একটি সাধারণ মাছ ধরার গ্রাম ধীরে ধীরে বদলে যায় পর্যটনকেন্দ্রে। এবার হাজার হাজার মার্কিন সেনার উপস্থিতি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্যও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

স্থানীয় রত্ন ব্যবসায়ী আনোন সাইতি জানান, সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের প্রভাব ও পর্যটক কমে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা চাপের মধ্যে ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে কয়েক হাজার মার্কিন সেনার আগমন স্থানীয় অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সেনাদের জন্য থাকছে কঠোর বিধিনিষেধ

তবে পাত্তায়ায় অবস্থানকালে মার্কিন সেনাসদস্যদের চলাফেরায় কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

পাত্তায়ার মেয়র পরমসে এনগামপিচেস জানান, সেনাসদস্যদের জন্য যৌনপল্লী হিসেবে পরিচিত ‘সই ৬’ এলাকায় যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি গাঁজার দোকান এবং জেট-স্কি ও প্যারাগ্লাইডিংয়ের মতো কিছু সমুদ্র ক্রীড়াতেও নিষেধাজ্ঞা থাকছে।

নিরাপত্তায় নামানো হয়েছে কয়েকশো পুলিশ

সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাত্তায়ায় কয়েকশো থাই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের যাতায়াতের জন্য বিশেষ বাস এবং থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একই সঙ্গে শহরটির পুরোনো ভাবমূর্তি বদলে এটিকে আরও পারিবারিক ও স্বাস্থ্যবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

৬ সেপ্টেম্বর আবার সমুদ্রে

পাত্তায়ায় এই বিরতি অবশ্য দীর্ঘ হচ্ছে না।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন থাইল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা দেবে।

২৫০ দিনের দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার পর এই কয়েক দিনের বিরতি তাই নাবিকদের জন্য শুধু বিশ্রামের সুযোগ নয়, একই সঙ্গে দীর্ঘ সামরিক মোতায়েনের মাঝখানে একটুখানি স্বস্তির সময়ও হয়ে উঠেছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ