সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

তথ্যপ্রযুক্তি
৩:৪৭ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফোল্ডেবল আইফোন নিয়ে বড় ঝুঁকি নিল অ্যাপল, দাম উঠছে ৩ হাজার ডলারের ওপরে

অ্যাপলের নতুন সিইও জন টার্নাস দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই কোম্পানির পণ্যভাণ্ডারে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিলেন। প্রথমবারের মতো ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচন করেছে অ্যাপল। নতুন এই ডিভাইসের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আইফোন ডুও’। বুধবারের বার্ষিক পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে আইফোন ডুও সামনে আনেন টার্নাস। সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল অ্যাপলের সিইও হিসেবে তাঁর প্রথম বড় পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠান। বইয়ের […]

ফোল্ডেবল আইফোন নিয়ে বড় ঝুঁকি নিল অ্যাপল, দাম উঠছে ৩ হাজার ডলারের ওপরে

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

অ্যাপলের নতুন সিইও জন টার্নাস দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই কোম্পানির পণ্যভাণ্ডারে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিলেন। প্রথমবারের মতো ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচন করেছে অ্যাপল। নতুন এই ডিভাইসের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আইফোন ডুও’।

বুধবারের বার্ষিক পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে আইফোন ডুও সামনে আনেন টার্নাস। সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল অ্যাপলের সিইও হিসেবে তাঁর প্রথম বড় পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠান।

বইয়ের মতো ভাঁজ করা আইফোন ডুও খোলা অবস্থায় ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লে দেয়। ভাঁজ করা অবস্থায় এটি একটি সাধারণ স্মার্টফোনের আকার নেয়। এতে একই সঙ্গে দুটি অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগসহ বড় পর্দার সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে অ্যাপল।

যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন ডুওর দাম শুরু হচ্ছে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে। বেশি স্টোরেজের সংস্করণে দাম প্রায় ৩ হাজার ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। ফলে এটি অ্যাপলের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দামি আইফোন।

টার্নাসের ভাষ্য, আইফোন ডুওকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীর কাছে এটি বড় আইপ্যাডের অভিজ্ঞতা দেয়, কিন্তু ভাঁজ করে সহজে বহন করা যায়। অন্য কোম্পানির ফোল্ডেবল ফোনের তুলনায় অ্যাপল ভিন্ন ধরনের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা দিতে চেয়েছে বলেও জানান তিনি।

ফোল্ডেবল ফোন তৈরির কাজ অ্যাপলে কয়েক বছর ধরেই চলছিল। হার্ডওয়্যার বিভাগের প্রধান হিসেবে টার্নাস নিজেও এই প্রকল্পের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন। অ্যাপলের দাবি, নতুন ফোনটি আইফোনের নকশায় এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি।

তবে এত উচ্চমূল্যের ফোন বাজারে কতটা সাড়া ফেলবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। সিসিএস ইনসাইটের প্রধান বিশ্লেষক বেন উড বলেন, ফোল্ডেবল ফোন এখনো স্মার্টফোন বাজারের ছোট একটি অংশ। তাঁর মতে, আইফোন ডুওর চাহিদা থাকবে, তবে এই পণ্যের মাধ্যমে বড় পরিসরে নতুন ক্রেতা তৈরি করা কতটা সম্ভব, সেটিই হবে বড় প্রশ্ন।

ফোরেস্টারের বিশ্লেষক দীপঞ্জন চ্যাটার্জিও মনে করছেন, উচ্চমূল্যের কারণে ফোল্ডেবল আইফোন অ্যাপলের জন্য বড় ব্যবসায়িক সাফল্য নাও আনতে পারে। তাঁর মতে, এটি ব্র্যান্ডের মর্যাদা বাড়াতে পারে, কিন্তু ব্যাপক বিক্রি না হলে কোম্পানির মোট ব্যবসায় বড় পরিবর্তন আনা কঠিন হবে।

এর আগে অ্যাপলের নতুন পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামের আইফোন ছিল ১৮ প্রো ম্যাক্স। এবার ডুও সেই সীমাও অনেকটা ছাড়িয়ে গেল। একই অনুষ্ঠানে আইফোন ১৮ প্রো ও ১৮ প্রো ম্যাক্স উন্মোচন করা হয়েছে, যেগুলোর দাম শুরু হচ্ছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৯৯ ও ১ হাজার ২৯৯ ডলার থেকে।

ফোল্ডেবল আইফোনের পাশাপাশি এআই নিয়েও বড় ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপল। উন্নত সংস্করণের সিরি এখন ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপট বুঝে তথ্য খুঁজে বের করতে এবং বিভিন্ন কাজে সহায়তা করতে পারবে। যেমন মেসেজ বা ই-মেইলের মধ্যে থাকা তথ্য খুঁজে বের করা কিংবা প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার মতো সুবিধা যুক্ত হচ্ছে।

অ্যাপল এআই সুবিধাগুলোতে গোপনীয়তার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। কোম্পানির ভাষ্য, এআইয়ের অনেক কাজ সরাসরি ডিভাইসেই সম্পন্ন হবে। যেসব কাজের জন্য ক্লাউড ব্যবহারের প্রয়োজন হবে, সেখানেও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আইফোন ডুওর মাধ্যমে অ্যাপল এমন এক বাজারে প্রবেশ করল, যেখানে স্যামসাং, গুগল ও মটোরোলার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীরা ইতোমধ্যেই ফোল্ডেবল ফোন নিয়ে কাজ করছে। এখন দেখার বিষয়, অ্যাপলের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ফোল্ডেবল আইফোন উচ্চমূল্য সত্ত্বেও এই প্রযুক্তিকে আরও সাধারণ মানুষের কাছে কতটা জনপ্রিয় করে তুলতে পারে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ