কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তদন্ত এবং এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ জোরালো হচ্ছে। অভিযোগকারী জেন ডোয়ের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শত শত মানুষের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। যৌন সহিংসতার প্রতিবাদ এবং অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে অবস্থান জানাতে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। যৌন সহিংসতা বন্ধের […]
ছবি: সংগৃহীত
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তদন্ত এবং এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ জোরালো হচ্ছে। অভিযোগকারী জেন ডোয়ের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শত শত মানুষের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। যৌন সহিংসতার প্রতিবাদ এবং অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে অবস্থান জানাতে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
যৌন সহিংসতা বন্ধের দাবিতে বৃহস্পতিবার পালিত হচ্ছে বিশেষ প্রতিবাদ কর্মসূচি। এর অংশ হিসেবে নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও এ ঘটনা নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সিনেট জানিয়েছে, চলমান যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে চলতি মাসের শেষ দিকে অনাস্থা ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সংকট মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে শিক্ষকদের অসন্তোষ প্রকাশ পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের পরিকল্পনা
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ২০২১ সালে তাদের ‘স্বাধীন বিচার প্রশাসক’ ব্যবস্থা বাতিল করে। বাইরের এই দপ্তরটি ক্যাম্পাসে অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পালন করত। ব্যবস্থা বাতিলের পর থেকে শিক্ষার্থীদের আচরণবিষয়ক দপ্তরই এসব অভিযোগের তদন্ত করে আসছে।
এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অন্য সদস্যদের মধ্যে তৈরি হওয়া হতাশা ও উদ্বেগের বিষয়টি তারা বুঝতে পারছে। তবে শিক্ষকদের প্রস্তাবিত অনাস্থা ভোটকে মূলত প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ভোটের মাধ্যমে প্রশাসনের কোনো সদস্যের শাস্তি নিশ্চিত করা কিংবা তাঁর প্রশাসনিক ক্ষমতা বাতিল করা সম্ভব হবে না।
তবে প্রতিবাদী শিক্ষকদের মতে, অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি একটি শক্তিশালী বার্তা দেওয়া সম্ভব। তাঁদের অভিযোগ, জেন ডোয়ের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁর অভিযোগের যথাযথ প্রতিকার নিশ্চিত করার পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
প্রধান তদন্তকারীকে সরানোর আবেদন অভিযুক্তের
এদিকে জেন ডোয়ের অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত পুরুষেরা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাঁদের একজন গিলিও লোপেস বুধবার নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল টিশ জেমসকে প্রধান তদন্তকারীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছেন।
লোপেসের দাবি, টিশ জেমস পক্ষপাতদুষ্ট এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই অভিযুক্তদের দোষী হিসেবে বিবেচনা করছেন। তবে এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
অন্যদিকে, জেন ডোয়ের আইনজীবী অভিযোগ করেছেন, ২০২৪ সালে ফৌজদারি তদন্ত চলাকালে তাঁর মক্কেলকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় জেলা অ্যাটর্নি অভিযোগ পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই মামলা আর এগিয়ে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তা সত্ত্বেও ক্যাম্পাস পুলিশ জেন ডোকে বিশ্বাস করিয়েছিল যে তদন্ত তখনো চলমান রয়েছে।
তদন্তের সময় কী ঘটেছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি কীভাবে মোকাবিলা করেছিল, তা নিয়ে বিরোধের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা ও জবাবদিহি নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে।
দেওয়ানি মামলার শুনানিকে ঘিরে কর্মসূচি
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ও চি ফি ভ্রাতৃসংঘের বিরুদ্ধে জেন ডোয়ের দায়ের করা দেওয়ানি মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে বড় প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। অভিযোগকারীর প্রতি সংহতি জানানো এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগের যথাযথ তদন্তের দাবি তোলাই এসব কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
কর্মসূচির সূচি অনুযায়ী, প্রথম সমাবেশ দুপুর ১২টায় কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। দ্বিতীয় সমাবেশ বিকেল সাড়ে ৫টায় ফোলি স্কয়ারে, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টের বিপরীতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ও চি ফি ভ্রাতৃসংঘের বিরুদ্ধে জেন ডো তাঁর দেওয়ানি মামলাটি দায়ের করেছেন।
যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তদন্ত, অভিযোগকারীর প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আচরণ এবং প্রশাসনের জবাবদিহি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে বৃহস্পতিবারের সমাবেশগুলো নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।