সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

NYC
৬:২১ অপরাহ্ন, ১০ অক্টোবর ২০২৬

নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে দুই ফার্মেসির মাধ্যমে ৩১ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির অভিযোগ, মালিক গ্রেপ্তার

নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যাকসন হাইটসে দুটি ফার্মেসির মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি থেকে ৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ জালিয়াতির অভিযোগে এক ফার্মেসি মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত মিগুয়েল ব্যারনের বয়স ৬২ বছর। তাঁর বিরুদ্ধে মেডিকেইড ও এইচআইভি চিকিৎসার ওষুধসংক্রান্ত সহায়তা কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস গত ৭ […]

নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে দুই ফার্মেসির মাধ্যমে ৩১ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির অভিযোগ, মালিক গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যাকসন হাইটসে দুটি ফার্মেসির মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি থেকে ৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ জালিয়াতির অভিযোগে এক ফার্মেসি মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত মিগুয়েল ব্যারনের বয়স ৬২ বছর। তাঁর বিরুদ্ধে মেডিকেইড ও এইচআইভি চিকিৎসার ওষুধসংক্রান্ত সহায়তা কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস গত ৭ অক্টোবর ব্যারনের গ্রেপ্তার ও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি ঘোষণা করেন। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়ঙ্কার্সের বাসিন্দা ব্যারন জ্যাকসন হাইটসের গার্দিওলা ফার্মেসি ও ব্যারন স্পেশালটি ফার্মেসির মাধ্যমে কথিত জালিয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

অভিযোগ রয়েছে, কানাডার টরন্টো যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার চেষ্টা করার সময় তাঁকে নিউইয়র্কের লা গার্ডিয়া বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যেভাবে চলছিল কথিত জালিয়াতি

অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের তদন্ত অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত কথিত জালিয়াতি কার্যক্রম চলে। এ সময় মেডিকেইডের আওতাভুক্ত এইচআইভি আক্রান্ত রোগীদের ওষুধ সংগ্রহের বিনিময়ে সাধারণত ১৫০ থেকে ২৫০ ডলার পর্যন্ত নগদ অর্থ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, কিছু রোগীর কাছ থেকে ওষুধ সংগ্রহের পর সেগুলো আবার ফার্মেসির মজুতে ফিরিয়ে রাখা হতো। পরে একই ওষুধ একাধিকবার বিতরণ করা হয়েছে দেখিয়ে মেডিকেইড ও এইডস ড্রাগ অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামের (এডিএপি) কাছে বারবার অর্থ দাবি করা হতো।

এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদনহীন উৎস থেকে সংগ্রহ করা ওষুধ রোগীদের দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ সরকারি কর্মসূচির কাছে অনুমোদিত ওষুধ সরবরাহের নামে বিল জমা দেওয়া হতো বলে তদন্তকারীদের দাবি।

এ ধরনের কর্মকাণ্ডে রোগীদের জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি ওষুধের নিরাপত্তা ও যথাযথ সংরক্ষণ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জালিয়াতির অর্থে বিলাসবহুল সম্পদ কেনার অভিযোগ

অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের অভিযোগ, কথিত জালিয়াতির মাধ্যমে পাওয়া অর্থের উৎস আড়াল করতে বিভিন্ন শেল কোম্পানির ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করা হয়েছিল।

তদন্তকারীদের দাবি, ওই অর্থ দিয়ে মিয়ামিতে বিলাসবহুল সম্পত্তি ও কনডোমিনিয়াম কেনা, নির্মাণ প্রকল্পে অর্থায়ন এবং মার্সিডিজ-বেঞ্জ ও লেক্সাসের মতো দামি গাড়ি কেনা হয়। এ ছাড়া ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের টিকিট কেনার ক্ষেত্রেও ওই অর্থ ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি ব্যারন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবিতে দেওয়ানি মামলাও করেছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। এ মামলায় ৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।

একাধিক গুরুতর অভিযোগ

কুইন্স কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরি ব্যারন ও তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ, স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি, মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের অবৈধভাবে অর্থ প্রদান এবং অর্থপাচারসহ একাধিক অভিযোগ এনেছে।

অভিযোগগুলোর মধ্যে প্রথম মাত্রার বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ সাজা হতে পারে ৮ বছর ৪ মাস থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড।

তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।

তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও আওয়াজবিডি

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ