সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

NYC
৬:২১ অপরাহ্ন, ৪ নভেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্কে বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়িতে কর আরোপের আইনি লড়াইয়ে মেয়র মামদানির জয়

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের উদ্যোগ নিয়ে আইনি লড়াইয়ে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন জয় পেয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) অঙ্গরাজ্যের আপিল আদালত কর বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে বাড়ির মালিকদের করা একটি মামলা খারিজ করে দিয়েছে। ফলে কর কার্যকরের পথে একটি আইনি বাধা আপাতত দূর হলো। এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের […]

NYC MEYOR MAMDANI

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের উদ্যোগ নিয়ে আইনি লড়াইয়ে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন জয় পেয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) অঙ্গরাজ্যের আপিল আদালত কর বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে বাড়ির মালিকদের করা একটি মামলা খারিজ করে দিয়েছে। ফলে কর কার্যকরের পথে একটি আইনি বাধা আপাতত দূর হলো।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের একটি আদালত কর বাস্তবায়নের প্রাথমিক প্রক্রিয়ায় ত্রুটি রয়েছে উল্লেখ করে শহর কর্তৃপক্ষকে নতুন করে প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই রায়ে সম্ভাব্য করদাতাদের কাছে পাঠানো নোটিশ বাতিল এবং সম্পত্তির একটি তালিকা ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শহর কর্তৃপক্ষ ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে।

বুধবার আপিল আদালত নিম্ন আদালতের রায় উল্টে দিয়ে বাড়ির মালিকদের মামলাটি খারিজ করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মামলাকারীরা শহর কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের কারণে তাঁদের কোনো নির্দিষ্ট ও প্রত্যক্ষ ক্ষতি হয়েছে—এমন প্রমাণ দেখাতে পারেননি। শুধু করের নোটিশ পাওয়া কিংবা সম্ভাব্য করের আওতায় থাকা সম্পত্তির তালিকায় নাম থাকা মামলা করার জন্য যথেষ্ট ক্ষতির প্রমাণ নয়।

তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে কর বাস্তবায়নের প্রতিটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ আইনসম্মত বলে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। রায়টি মূলত মামলাকারীদের আইনি অবস্থান বা মামলা করার অধিকারসংক্রান্ত প্রশ্নে দেওয়া হয়েছে। করটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে পৃথক দুটি মামলা এখনো বিচারাধীন।

মামদানির প্রস্তাবিত এই করকে বলা হচ্ছে ‘পিয়েড-আ-তের’ কর। সাধারণত কোনো ব্যক্তির প্রধান বাসস্থানের বাইরে থাকা বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ক্ষেত্রে এ ধরনের কর আরোপ করা হয়। নিউইয়র্ক সিটির নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে শহরের বাইরে প্রধান বাসস্থান রয়েছে—এমন মালিকদের নির্দিষ্ট উচ্চমূল্যের সম্পত্তি এ করের আওতায় পড়তে পারে।

নিউইয়র্ক সিটির অর্থ বিভাগের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, এক থেকে তিন পরিবারের বাড়ির ক্ষেত্রে মূল্য ৫০ লাখ ডলারের বেশি হতে হবে। আর কনডোমিনিয়াম ও কো-অপারেটিভ অ্যাপার্টমেন্টের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্য ১০ লাখ ডলার বা তার বেশি হলে কর প্রযোজ্য হতে পারে। তবে মালিক, ভাড়াটে বা মালিকের নিকট পরিবারের সদস্য সেখানে প্রধান বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করলে সাধারণত এই অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য হবে না।

মামদানির প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, এই কর থেকে বছরে প্রায় ৫০ কোটি ডলার রাজস্ব আসতে পারে। তবে শহরের নিয়ন্ত্রক মার্ক লেভিন এর আগে প্রায় ১১ হাজার ২০০টি সম্পত্তি থেকে সর্বোচ্চ ৩৮ কোটি ডলার রাজস্ব আসার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন। নিউইয়র্ক সিটির অর্থ বিভাগ ইতিমধ্যে ৮ হাজার ৮০০টির বেশি অব্যাহতির আবেদন মঞ্জুর করেছে।

মামদানির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম অংশ ছিল ধনীদের ওপর কর বাড়িয়ে নগরীর জনসেবামূলক খাতে অর্থায়ন করা। তাঁর প্রশাসনের বক্তব্য, বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করে শহরের বিভিন্ন জনসেবা ও নাগরিক সুবিধায় অর্থ ব্যয় করা হবে।

তবে করটির বিরোধীরা বলছেন, এর প্রয়োগে এমন বাড়ির মালিকেরাও হয়রানির মুখে পড়তে পারেন, যাঁদের সম্পত্তি আসলে করের আওতায় পড়ে না। বাড়ির মালিকদের পক্ষে আইনজীবী র‌্যান্ডি মাসট্রো আপিল আদালতের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁর যুক্তি, শহর কর্তৃপক্ষের তথ্য সংগ্রহ ও নোটিশ পাঠানোর প্রক্রিয়ায় ত্রুটি থাকলেও আদালত মূল অভিযোগের বিচার করেননি।

এদিকে, করটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে পৃথক দুটি মামলা রয়েছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, এই কর নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সংবিধানের সম্পত্তি করসংক্রান্ত বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং অঙ্গরাজ্যের বাইরের বাসিন্দাদের প্রতি বৈষম্যমূলক। এসব মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত করটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আইনি অনিশ্চয়তা থাকছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ