সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় এক মা পরপর তিন কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার পর নবজাতক কন্যা শিশুকে খালে ফেলে হত্যা করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। ঘটনার সময় শিশুটির বয়স মাত্র পাঁচ দিন। সোমবার (২০ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। কলারোয়া থানার ওসি শেখ সাইফুল ইসলাম মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করে […]
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় এক মা পরপর তিন কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার পর নবজাতক কন্যা শিশুকে খালে ফেলে হত্যা করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। ঘটনার সময় শিশুটির বয়স মাত্র পাঁচ দিন। সোমবার (২০ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
কলারোয়া থানার ওসি শেখ সাইফুল ইসলাম মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিশুটির বাবা ইব্রাহিম খলিল (৪২) সোমবার রাতে থানায় এসে কন্যা শিশুটির নিখোঁজের বিষয়ে জিডি করতে চান। তার কথার কিছু অংশ সন্দেহজনক হওয়ায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মা শারমিন আক্তারের সঙ্গে কথা বলায় তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।
ওসি জানিয়েছেন, “শারমিন আক্তারের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, তাদের পাঁচ বছর ও দেড় বছরের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। পরপর কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ায় তিনি নবজাতক শিশুটিকে খালে ফেলে দেন।” পরে পুলিশ ও ডিবি সদস্যরা বাড়ির পাশে সরকারি খালে খোঁজ নিয়ে কচুরিপনার মধ্যে থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করে। শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুর দাদী খাদিজা খাতুন বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত মা শারমিন আক্তারকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মৃত শিশুর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার সন্ধ্যা থেকে শিশুটির সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। শিশুটির মা-বাবার আচরণও সন্দেহের সৃষ্টি করছিল। তাই রাতেই পুলিশ ও ডিবি যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে খাল থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিঠুন সরকার, ডিবি ও পিবিআই কর্মকর্তারা এবং এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা।
বাংলাদেশে কন্যা সন্তান জন্মের প্রতি কিছু অঞ্চলে এখনও বিদ্যমান সামাজিক কুসংস্কার ও বৈষম্যের প্রভাব এই ধরনের দুর্ঘটনার পেছনে কাজ করে। বিশেষ করে মেয়েদের প্রতি অবজ্ঞা ও পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক চাপ অনেক সময় এমন নৃশংস ঘটনাকে উৎসাহিত করে।
এ ধরনের ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত পরিবারেই নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও বড় উদ্বেগের বিষয়। নারীর প্রতি সমমনা মনোভাব গড়ে তোলা, শিক্ষার প্রসার ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই ধরনের দুঃখজনক ঘটনা রোধ করা জরুরি। একই সঙ্গে কন্যা সন্তানের প্রতি সামাজিক মূল্যবোধ উন্নত করতে প্রয়োজন কার্যকর আইন প্রয়োগ ও মানবাধিকার সচেতনতা।
এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, কন্যা সন্তান জন্মই একটি আশীর্বাদ, এবং সমাজের প্রতিটি সদস্যের দায়িত্ব তাদের সুরক্ষা ও সম্মান নিশ্চিত করা।