সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

USCIS
২:৪৫ অপরাহ্ন, ১৯ আগস্ট ২০২৬

গ্রিন কার্ডের পর নাগরিকত্বে বাধা হতে পারে যে ৩ ভুল

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর অনেকেই মনে করেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ এখন শুধু নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করার বিষয়। কিন্তু বাস্তবে ন্যাচারালাইজেশনের জন্য বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা, ট্যাক্স সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের অসামঞ্জস্য এবং যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ভোট দেওয়া বা ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের মতো বিষয় ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের […]

গ্রিন কার্ডের পর নাগরিকত্বে বাধা হতে পারে যে ৩ ভুল

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর অনেকেই মনে করেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ এখন শুধু নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করার বিষয়। কিন্তু বাস্তবে ন্যাচারালাইজেশনের জন্য বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা, ট্যাক্স সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের অসামঞ্জস্য এবং যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ভোট দেওয়া বা ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের মতো বিষয় ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের আবেদনে গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে।

২০২৬ সালেও ইউএসসিআইএস নাগরিকত্বের আবেদন যাচাইয়ের সময় আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের ধারাবাহিকতা, বিদেশ ভ্রমণের তথ্য, ট্যাক্স সংক্রান্ত বিষয় এবং বেআইনি ভোট বা মার্কিন নাগরিকত্বের ভুল দাবি করার মতো বিষয় বিবেচনা করতে পারে।

দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা

নাগরিকত্বের আবেদনের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক বসবাসের শর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ গ্রিন কার্ডধারীর ক্ষেত্রে ন্যাচারালাইজেশনের জন্য সাধারণত পাঁচ বছরের ধারাবাহিক বসবাসের শর্ত রয়েছে। মার্কিন নাগরিকের যোগ্য স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে তিন বছরের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।

তবে একটানা ছয় মাসের বেশি কিন্তু এক বছরের কম সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্বের যোগ্যতা শেষ হয়ে যায় না। কিন্তু এমন অনুপস্থিতি ধারাবাহিক বসবাসের শর্ত ভেঙে দিয়েছে বলে ধরে নেওয়ার ভিত্তি তৈরি করতে পারে। তখন আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্রই তার স্থায়ী আবাসস্থল ছিল।

আর একটানা এক বছর বা তার বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলে সাধারণভাবে ন্যাচারালাইজেশনের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক বসবাসে বড় বাধা তৈরি হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকা একজন স্থায়ী বাসিন্দার গ্রিন কার্ড স্ট্যাটাস নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে।

রি-এন্ট্রি পারমিট থাকলেই নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক বসবাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষিত হয়—এমন ধারণাও সঠিক নয়। কিছু নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানভিত্তিক পরিস্থিতিতে আলাদা নিয়মে ধারাবাহিক বসবাস সংরক্ষণের সুযোগ থাকতে পারে।

ট্যাক্স রিটার্নে ভুল তথ্য দেওয়া

গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য ট্যাক্সের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। আইআরএসের নিয়ম অনুযায়ী, গ্রিন কার্ডধারী সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের ট্যাক্স রেসিডেন্ট হিসেবে বিবেচিত হন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মতো বিশ্বব্যাপী আয় রিপোর্ট করার নিয়মের আওতায় থাকেন।

তাই কোনো গ্রিন কার্ডধারী নিজের ট্যাক্স রিটার্নে ভুলভাবে নিজেকে নন-রেসিডেন্ট হিসেবে দেখালে ভবিষ্যতে প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষ করে ট্যাক্সে নেওয়া অবস্থান যদি যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের স্থায়ী বসবাসের দেশ হিসেবে দেখানোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করতে পারে।

অবশ্য ট্যাক্স রেসিডেন্সি ও ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস সব ক্ষেত্রে একই বিষয় নয়। ট্যাক্স ট্রিটি, বিদেশে বসবাস বা উপার্জন এবং অন্যান্য বিশেষ পরিস্থিতিতে ভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ট্যাক্স পেশাজীবী ও ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বেআইনিভাবে ভোট দেওয়া বা ভোটার হিসেবে নিবন্ধন

গ্রিন কার্ড একজন ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজের অধিকার দিলেও এটি নাগরিকত্ব নয়। ইউএসসিআইএসের বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী, বেআইনিভাবে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করা বা ভোট দেওয়া ন্যাচারালাইজেশনের জন্য ‘গুড মোরাল ক্যারেক্টার’-এর শর্তে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি নির্বাসনের আইনি ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে ফেডারেল নির্বাচনে অযোগ্য কোনো বিদেশি নাগরিকের ভোট দেওয়া বেআইনি। একইভাবে ভোটার নিবন্ধনের সময় জেনেশুনে নিজেকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে দাবি করাও গুরুতর বিষয়। ইউএসসিআইএসের ২০২৫ সালের নীতিমালা এ ধরনের বেআইনি ভোট, ভোটার নিবন্ধন এবং নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি নিয়ে নির্দেশনা আরও স্পষ্ট করেছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব নির্বাচন একই নিয়মের আওতায় পড়ে না। কিছু অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় নির্বাচনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তাই কোনো নির্বাচনেই গ্রিন কার্ডধারী ভোট দিতে পারবেন না—এমন সার্বিক বক্তব্য সঠিক নয়। নির্বাচনের ধরন ও স্থানীয় আইন আগে যাচাই করা জরুরি।

নাগরিকত্বের প্রস্তুতি আগে থেকেই জরুরি

গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের প্রস্তুতি শুধু এন-৪০০ ফর্ম জমা দেওয়ার সময় শুরু করা উচিত নয়। বিদেশে কতদিন থাকা হচ্ছে, ট্যাক্স কীভাবে ফাইল করা হচ্ছে এবং ভোটার নিবন্ধন বা ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের আইনগত যোগ্যতা কী—এসব বিষয় শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ইতোমধ্যে কোনো ভুল হয়ে থাকলে সেটি গোপন না করে নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে নিজের পরিস্থিতি একজন যোগ্য ইমিগ্রেশন আইনজীবীর সঙ্গে পর্যালোচনা করা নিরাপদ। কারণ একই ধরনের কোনো ঘটনা এক ব্যক্তির ক্ষেত্রে সামান্য ব্যাখ্যার বিষয় হলেও অন্য ব্যক্তির ইমিগ্রেশন ইতিহাসের কারণে তা গুরুতর আইনি সমস্যায় পরিণত হতে পারে।

তথ্যসূত্র: ইউএসসিআইএস ও ইউএস আইআরএস

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ