সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

NYC
৪:৩১ অপরাহ্ন, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

নিউইয়র্কে অ্যাম্বুলেন্সের সাড়া দিতে বাড়ছে সময়, প্রাণঘাতী জরুরি কল বেড়েছে ২৩ শতাংশ

নিউইয়র্ক সিটিতে জরুরি চিকিৎসাসেবার চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতেও আগের চেয়ে বেশি সময় লাগছে। প্রাণঘাতী চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি এবং জনবলসংকটের কারণে শহরটির জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা (ইএমএস) ক্রমবর্ধমান চাপে রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির কম্পট্রোলার মার্ক লেভিনের কার্যালয়ের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৬ অর্থবছরের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটি ফায়ার […]

নিউইয়র্কে অ্যাম্বুলেন্সের সাড়া দিতে বাড়ছে সময়, প্রাণঘাতী জরুরি কল বেড়েছে ২৩ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

নিউইয়র্ক সিটিতে জরুরি চিকিৎসাসেবার চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতেও আগের চেয়ে বেশি সময় লাগছে। প্রাণঘাতী চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি এবং জনবলসংকটের কারণে শহরটির জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা (ইএমএস) ক্রমবর্ধমান চাপে রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির কম্পট্রোলার মার্ক লেভিনের কার্যালয়ের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৬ অর্থবছরের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের (এফডিএনওয়াই) অ্যাম্বুলেন্স পরিচালিত জরুরি চিকিৎসাসেবার সংখ্যা ১১ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে সেবার সংখ্যা ১০ লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ১১ লাখ ৪০ হাজারে পৌঁছেছে।

একই সময়ে প্রাণঘাতী চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতির সংখ্যা বেড়েছে ২২ দশমিক ৯ শতাংশ। বিপরীতে, প্রাণঘাতী নয়—এমন জরুরি পরিস্থিতির সংখ্যা বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

প্রাণঘাতী জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে বাড়তি ৩ মিনিট ৫০ সেকেন্ড

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরুরি সেবায় সাড়া দেওয়ার সময় প্রায় প্রতিটি পর্যায়েই বেড়েছে। প্রাণঘাতী জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্সের সাড়া দেওয়ার সময় বেড়েছে ৩ মিনিট ৫০ সেকেন্ড, যা ৪১ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি।

অন্যদিকে, প্রাণঘাতী নয়—এমন জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে আগের তুলনায় ১৪ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড বেশি সময় লাগছে। অর্থাৎ, এ ধরনের ঘটনায় সাড়া দেওয়ার সময় দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরুরি কল গ্রহণ ও অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর প্রক্রিয়া এবং ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর যাত্রাসময়—এই দুই পর্যায়ের বিলম্ব সামগ্রিক সাড়া দেওয়ার সময় বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে।

আরও অ্যাম্বুলেন্স ও জনবল বাড়ানোর আহ্বান

কম্পট্রোলার মার্ক লেভিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জরুরি চিকিৎসাসেবার বিলম্ব কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, রাস্তায় আরও অ্যাম্বুলেন্স নামানো, জরুরি চিকিৎসাসেবার জনবল শক্তিশালী করা এবং এমন বিলম্ব কমানো প্রয়োজন, যার কারণে কর্মীরা একটি জরুরি পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে আটকে থাকেন এবং পরবর্তী জরুরি কলে দ্রুত সাড়া দিতে পারেন না।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, জরুরি চিকিৎসাসেবার চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেবার সক্ষমতা বজায় রাখা এখন নগর কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রাণঘাতী পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে সময়ের এই বৃদ্ধি উদ্বেগের বিষয়।

সাত বছরে চাকরি ছেড়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইএমটি ও প্যারামেডিক

এফডিএনওয়াইয়ের জরুরি চিকিৎসাসেবা বিভাগের জনবলসংকটও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। ২০১৯ থেকে ২০২৬ অর্থবছরের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন জরুরি চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ (ইএমটি) ও প্যারামেডিক চাকরি ছেড়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে চাকরি ছেড়ে যাওয়া অগ্নিনির্বাপকদের সংখ্যার কাছাকাছি এই সংখ্যা। তবে ইএমটি ও প্যারামেডিকদের সম্মিলিত সংখ্যার তুলনায় অগ্নিনির্বাপকদের মোট সংখ্যা অনেক বেশি।

২০২৬ অর্থবছরের শেষে এফডিএনওয়াইয়ে কর্মরত ছিলেন ৯০০ জন প্যারামেডিক, ২ হাজার ৫৪০ জন ইএমটি এবং ৮ হাজার ১৭০ জন অগ্নিনির্বাপক।

কম্পট্রোলারের কার্যালয় বলেছে, কর্মীদের উচ্চহারে চাকরি ছেড়ে দেওয়া এবং পদগুলোতে তুলনামূলক কম সময় কাজ করার প্রবণতা রোগীদের চিকিৎসার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি নতুন কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং অতিরিক্ত সময় কাজের জন্য ব্যয়ও বাড়ে।

কম বেতন ও চুক্তি না হওয়া জনবল ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শহরের অন্যান্য জরুরি সেবাকর্মীদের তুলনায় ইএমটি ও প্যারামেডিকদের বেতন কম। এ ছাড়া জরুরি চিকিৎসাসেবা কর্মীদের ইউনিয়নের সঙ্গে ২০২২ সালের জুলাই থেকে নতুন চুক্তি না হওয়াও জনবল ধরে রাখার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, একদিকে জরুরি চিকিৎসাসেবার চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে অভিজ্ঞ কর্মীদের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা এবং নতুন কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ব্যয় সেবার ওপর চাপ তৈরি করছে। এর সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো ও ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় বেড়ে যাওয়ায় নিউইয়র্ক সিটির জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ