সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

NYC
২:৪৬ অপরাহ্ন, ৩ নভেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সাফল্যের দাবি ভ্যান্সের, ব্যঙ্গাত্মক ভিডিওতে জবাব মামদানির

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নিউইয়র্কের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে বড় সাফল্য এনেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর এই দাবির জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও শেয়ার করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ‘উই গট ইয়োর ব্যাক, […]

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নিউইয়র্কের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে বড় সাফল্য এনেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর এই দাবির জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও শেয়ার করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ‘উই গট ইয়োর ব্যাক, নিউইয়র্ক’ (নিউইয়র্ক, আমরা তোমাদের পাশে আছি) বার্তা দিয়ে একটি গ্রাফিক প্রকাশ করেন ভ্যান্স। সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে নিউইয়র্কে অপরাধ কমা, কর্মসংস্থান রক্ষা এবং বড় অঙ্কের বিনিয়োগের মতো বিষয়গুলোকে প্রশাসনের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়।

ভ্যান্সের প্রকাশিত গ্রাফিকে দাবি করা হয়, নিউইয়র্কে হত্যাকাণ্ড ৪৮ শতাংশ কমেছে, ৩ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান সুরক্ষিত হয়েছে এবং ৩২ বিলিয়ন ডলারের মজুরি রক্ষা পেয়েছে। এ ছাড়া নিউইয়র্কে ৪৭২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের কথাও উল্লেখ করা হয়। কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য করছাড় এবং স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের কর সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ও তুলে ধরা হয়।

ভিডিওতে মামদানির ব্যঙ্গাত্মক জবাব

ভ্যান্সের পোস্টের জবাবে দীর্ঘ কোনো বক্তব্য না দিয়ে একটি নয় সেকেন্ডের ভিডিও শেয়ার করেন মেয়র মামদানি। ভিডিওতে দেখা যায়, উজ্জ্বল নিরাপত্তা পোশাক পরা এক ব্যক্তি সাবওয়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে আসা ট্রেনটিকে নিজের হাতে থামানোর ভান করছেন। এরপর তিনি ট্রেনের স্বয়ংক্রিয় দরজা ধরে রাখার অভিনয় করেন এবং যাত্রীদের ওঠানামায় সহায়তা করেন। শেষে ট্রেনটিকে ছেড়ে যাওয়ার সংকেতও দেন।

ভিডিওটির মূল কৌতুক হলো, ট্রেনটি স্বাভাবিক নিয়মেই স্টেশনে থামছে এবং দরজা খুলছে, অথচ ওই ব্যক্তি এমন আচরণ করছেন যেন তাঁর প্রচেষ্টাতেই সবকিছু ঘটছে। মামদানি ভিডিওটির সঙ্গে আলাদা কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এটিকে ট্রাম্প প্রশাসনের নিউইয়র্কের সাফল্যের কৃতিত্ব নেওয়ার দাবির প্রতি ব্যঙ্গ হিসেবে দেখছেন।

ভিডিওটি মূলত অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতা অলি বি-র তৈরি। তিনি এর আগে একই ভিডিওতে ব্যক্তিটিকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে পরিশ্রমী কর্মী’ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন।

ভ্যান্সের দাবির তথ্য নিয়ে প্রশ্ন

ভ্যান্সের পোস্ট প্রকাশের পর এক্সে যুক্ত হয় কমিউনিটি নোট। সেখানে গ্রাফিকের কয়েকটি পরিসংখ্যানের উৎস ও সেগুলোকে ট্রাম্প প্রশাসনের সাফল্য হিসেবে উপস্থাপনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

নোটে বলা হয়, উল্লেখ করা কয়েকটি বিনিয়োগের অঙ্ক শুধু নিউইয়র্কের নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত। উদাহরণ হিসেবে মাইক্রনের ২৫০ বিলিয়ন ডলার, অ্যানথ্রপিকের ৫০ বিলিয়ন ডলার এবং আইবিএমের ১৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়। এসব অঙ্ককে সরাসরি নিউইয়র্কে বিনিয়োগ হিসেবে দেখানো বিভ্রান্তিকর হতে পারে।

এ ছাড়া হত্যাকাণ্ড ৪৮ শতাংশ কমার দাবিটি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব ‘গান ইনভলভড ভায়োলেন্স এলিমিনেশন’ বা জিআইভিই কর্মসূচির তথ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে নোটে উল্লেখ করা হয়। এই কর্মসূচির আওতায় অঙ্গরাজ্যের ২৮টি পুলিশ বিভাগে বন্দুক সহিংসতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে ওই পরিসংখ্যানকে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের অর্জন হিসেবে উপস্থাপন করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ও মামদানির রাজনৈতিক বিরোধ

ট্রাম্প প্রশাসন এবং নিউইয়র্কের মেয়র মামদানির মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য নতুন নয়। এর আগে ভ্যান্স মামদানিকে ‘বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে অবগত এবং তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর মনে করেন।

অন্যদিকে, মামদানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ও সংক্ষিপ্ত বার্তার মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন। এবারও ভ্যান্সের পরিসংখ্যানভিত্তিক পোস্টের জবাবে তাঁর সংক্ষিপ্ত ভিডিওটি দ্রুত আলোচনায় আসে।

ভ্যান্সের পোস্ট এবং মামদানির ভিডিওকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ মামদানির ভিডিওকে ভ্যান্সের দাবির ব্যঙ্গাত্মক জবাব হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ নিউইয়র্কের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির কৃতিত্ব নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করছেন।

এ ঘটনায় মূল বিতর্কটি দাঁড়িয়েছে নিউইয়র্কের সাম্প্রতিক উন্নতির কৃতিত্ব কার, তা নিয়ে। কেন্দ্রীয় প্রশাসনের দাবি, ট্রাম্প সরকারের নীতির ফলে রাজ্যটিতে নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে অগ্রগতি হয়েছে। অন্যদিকে, মামদানির ভিডিওকে অনেকেই সেই অগ্রগতির কৃতিত্ব নেওয়ার প্রচেষ্টার প্রতি বিদ্রূপ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ