নিউইয়র্কে গ্রীষ্মের দীর্ঘ দিনের বিদায়ঘণ্টা বেজে উঠেছে। আর মাত্র কয়েকদিন পরই শহরজুড়ে রাত ৮টার পর সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য অতীত হয়ে যাবে। দিনের আলো ধীরে ধীরে কমতে শুরু করায় অনেক নিউইয়র্কবাসীর মধ্যেই নেমে এসেছে হালকা আক্ষেপ। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শুরু থেকেই সূর্যাস্তের সময় প্রতিদিনই কয়েক সেকেন্ড করে এগিয়ে আসছে। মঙ্গলবার সূর্য অস্ত যাবে রাত ৮টা […]
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে গ্রীষ্মের দীর্ঘ দিনের বিদায়ঘণ্টা বেজে উঠেছে। আর মাত্র কয়েকদিন পরই শহরজুড়ে রাত ৮টার পর সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য অতীত হয়ে যাবে। দিনের আলো ধীরে ধীরে কমতে শুরু করায় অনেক নিউইয়র্কবাসীর মধ্যেই নেমে এসেছে হালকা আক্ষেপ।
জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শুরু থেকেই সূর্যাস্তের সময় প্রতিদিনই কয়েক সেকেন্ড করে এগিয়ে আসছে। মঙ্গলবার সূর্য অস্ত যাবে রাত ৮টা ৭ মিনিটে, বুধবার ৮টা ৬ মিনিটে। ১০ আগস্ট সূর্যাস্ত হবে ঠিক রাত ৮টায়, আর ১১ আগস্ট থেকে সূর্য ডুবে যাবে সন্ধ্যা ৭টা ৫৯ মিনিটে। অর্থাৎ, এরপর থেকে নিউইয়র্কে রাত ৮টার পর সূর্যাস্ত আর দেখা যাবে না।
অনেক বাসিন্দার কাছে গ্রীষ্মের দীর্ঘ সন্ধ্যা বছরের সবচেয়ে উপভোগ্য সময়। ইস্ট হারলেমের বাসিন্দা সাবরিনা টাইসার-ওয়ার বলেন, দীর্ঘ দিনের আলো বন্ধুদের সঙ্গে পার্কে সময় কাটানো, হাঁটাহাঁটি কিংবা কাজ শেষে বাইরে কিছুটা সময় উপভোগ করার সুযোগ করে দেয়। তবে দিনের আলো কমতে শুরু করলে স্বাভাবিকভাবেই বাইরে সময় কাটানোর আগ্রহও কমে যায়।
এদিকে, ১ নভেম্বর ডেলাইট সেভিংস টাইম (Daylight Saving Time) শেষ হলে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে নেওয়া হবে। ফলে সন্ধ্যা আরও দ্রুত নেমে আসবে এবং দিনের আলো আরও কমে যাবে।
আজীবন নিউইয়র্কের বাসিন্দা মেলিনা জাদেহ মনে করেন, সূর্য দ্রুত ডুবে গেলে দিনের বড় একটি অংশ যেন হারিয়ে যায়। তাই তিনি চান, ডেলাইট সেভিংস টাইম স্থায়ী করা হোক, যাতে মানুষ সন্ধ্যার পরও দীর্ঘ সময় প্রাকৃতিক আলো উপভোগ করতে পারেন।
তবে সবাই বিষয়টিকে একইভাবে দেখেন না। টেয়ারিন কিম বলেন, কর্মব্যস্ততার কারণে দিনের বেশিরভাগ সময়ই তাকে ঘরের ভেতরে থাকতে হয়। তাই সূর্যাস্তের সময়ের এই পরিবর্তন তার দৈনন্দিন জীবনে তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিংস টাইম স্থায়ী করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এ-সংক্রান্ত একটি বিল ইতোমধ্যে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়েছে এবং বর্তমানে সিনেটে বিবেচনার অপেক্ষায় রয়েছে।
গ্রীষ্মের দীর্ঘ আলো বিদায় নিলেও, নিউইয়র্কবাসীর কাছে এটি শুধু ঋতু পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়—বরং শরতের আগমনী বার্তাও।