সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বাংলাদেশ
৬:৩৯ অপরাহ্ন, ২৭ জুন ২০২৬

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১৬ কোটি টাকা, ভাঙল আগের সব রেকর্ড

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার পাওয়া গেছে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ। দীর্ঘ সময় ধরে গণনা শেষে দানবাক্সগুলো থেকে মোট ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার এবং রুপাও পাওয়া গেছে। শনিবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং দানবাক্স […]

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১৬ কোটি টাকা, ভাঙল আগের সব রেকর্ড

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার পাওয়া গেছে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ। দীর্ঘ সময় ধরে গণনা শেষে দানবাক্সগুলো থেকে মোট ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার এবং রুপাও পাওয়া গেছে।

শনিবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে শনিবার সকাল থেকেই দানবাক্সের টাকা গণনার কার্যক্রম শুরু হয়। টানা প্রায় সাড়ে ১৩ ঘণ্টা ধরে চলা এই গণনা কার্যক্রম শেষ হয় রাত সাড়ে ৮টার দিকে।

মো. এরশাদুল আহমেদ জানান, সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া গণনা শেষে মোট ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে, যা পাগলা মসজিদের ইতিহাসে দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত সর্বোচ্চ অর্থের পরিমাণ।

জানা গেছে, শনিবার সকালে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিনের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলোর তালা খোলা হয়।

এরপর দানবাক্স থেকে বের করা টাকা একে একে ৪৩টি বড় বস্তায় ভরা হয়। পরে সেসব বস্তা মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে অর্থ গণনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

বস্তাগুলো থেকে টাকা মেঝেতে ঢেলে দেওয়ার পর শুরু হয় দীর্ঘ গণনা কার্যক্রম। এতে অংশ নেন পাগলা মসজিদ-সংলগ্ন মাদ্রাসার ১০৬ জন শিক্ষার্থী এবং আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ৩০০ জন শিক্ষার্থী।

এ ছাড়া রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা, পাগলা মসজিদের ৩৫ জন কর্মচারী এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ১৯ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সারাদিন ধরে অর্থ গণনার কাজে অংশ নেন।

গণনা কার্যক্রম শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে চূড়ান্ত হিসাব ঘোষণা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দানবাক্স খোলা থেকে শুরু করে অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়া পর্যন্ত পুরো কার্যক্রমে প্রশাসনের ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

এ সময় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসনের ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৪০ জন পুলিশ সদস্য, ৮ জন র‍্যাব সদস্য এবং ২০ জন আনসার সদস্য।

জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন বলেন, পাগলা মসজিদের প্রতি মানুষের গভীর আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন এই বিপুল পরিমাণ দানের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়।

তিনি আরও বলেন, মানুষের দেওয়া এই অর্থ অত্যন্ত স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা করা হয়।

এ ছাড়া দানবাক্সে পাওয়া বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার এবং রুপা জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সোহানা নাসরিন বলেন, পাগলা মসজিদের এই তহবিল কোনো ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হয় না।

এই অর্থ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা এবং এতিমখানার উন্নয়ন ও পরিচালনায় অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়। পাশাপাশি অসহায়, দরিদ্র এবং জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা ও কল্যাণমূলক কাজেও এই তহবিল থেকে অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ছয় মাস আগে পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন সেখান থেকে প্রায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার মতো অর্থ পাওয়া গিয়েছিল।

সেই রেকর্ড ভেঙে এবার প্রায় ১৬ কোটি টাকা জমা পড়ায় পাগলা মসজিদের দানবাক্স আবারও দেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় অনুদান সংগ্রহের কেন্দ্র হিসেবে নতুন নজির স্থাপন করেছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ