নিউইয়র্ক সিটির বাসের ভাড়া এখনো ৩ ডলার থাকলেও বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বাস ভাড়া থেকে মহানগর পরিবহন কর্তৃপক্ষের (এমটিএ) আয়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এমটিএর সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুন মাসে বাসে ভাড়া পরিশোধকারী যাত্রীর সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ […]
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটির বাসের ভাড়া এখনো ৩ ডলার থাকলেও বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বাস ভাড়া থেকে মহানগর পরিবহন কর্তৃপক্ষের (এমটিএ) আয়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
এমটিএর সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুন মাসে বাসে ভাড়া পরিশোধকারী যাত্রীর সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে একই সময়ে নিউইয়র্কের পাতালরেল (সাবওয়ে) ও কমিউটার ট্রেনে ভাড়া আদায় বেড়েছে।
সংস্থাটির তথ্য বলছে, মেয়র জোহরান মামদানি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ছয় মাসে ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় বাস ভাড়া থেকে এমটিএর আয় ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার কমেছে।
এমটিএর চেয়ারম্যান জানো লিবার মনে করেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় শহরের বাসসেবা বিনা ভাড়ায় করার প্রস্তাব দেওয়ার কারণে অনেক যাত্রীর মধ্যে ভাড়া না দেওয়ার প্রবণতা বেড়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, গণপরিবহন সচল রাখতে সবারই ভাড়া পরিশোধের মাধ্যমে ব্যয় বহনে অংশগ্রহণ করা উচিত। অন্যথায় এর আর্থিক চাপ শেষ পর্যন্ত অন্যান্য যাত্রীদের ওপর পড়বে।
অন্যদিকে, মেয়র মামদানির কার্যালয় বলেছে, ভাড়া ফাঁকি নতুন কোনো সমস্যা নয়; এটি বহুদিনের বাস্তবতা। তাদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ নিয়মিত বাসভাড়া পরিশোধ করতে পারছেন না। এ কারণেই বাসসেবা বিনা ভাড়ায় চালুর প্রস্তাবকে তারা যৌক্তিক বলে মনে করছে।
বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী, বাসচালকেরা যাত্রীদের কাছ থেকে জোর করে ভাড়া আদায় করেন না। ২০০৮ সালে ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে এক বাসচালক নিহত হওয়ার পর শ্রমিক চুক্তির আওতায় এই ব্যবস্থা চালু করা হয়। এমটিএর ধারণা, বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটির বাসের প্রায় অর্ধেক যাত্রী কোনো ভাড়া পরিশোধ করেন না।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এমটিএ নতুন প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। মেট্রোকার্ড পুরোপুরি তুলে দেওয়ার পর যাত্রীরা ফোন বা ওএমএনওয়াই (OMNY) কার্ড ব্যবহার করে ভাড়া পরিশোধ করেছেন কি না, তা বিশেষ ইলেকট্রনিক যন্ত্রের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। ভাড়া পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে জরিমানাও করা হতে পারে।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কিছু অধিকারকর্মী। তাদের আশঙ্কা, কঠোর ভাড়া যাচাই অভিযান চালানো হলে আর্থিকভাবে অসচ্ছল যাত্রীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
এদিকে স্বল্প আয়ের বাসিন্দাদের জন্য চালু থাকা ফেয়ার ফেয়ার্স (Fair Fares) কর্মসূচির আওতায় অর্ধেক ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ থাকলেও অনেকের অভিযোগ, আবেদন প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় তারা এই সুবিধা নিতে পারছেন না।
এমটিএর চেয়ারম্যান জানো লিবার সতর্ক করে বলেছেন, যদি ভবিষ্যতেও ভাড়া না দিয়ে যাতায়াতের হার বাড়তে থাকে, তাহলে রাজস্ব ঘাটতি সামাল দিতে সংস্থাকে ভবিষ্যতে বাসভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে হতে পারে।