সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

অন্যান্য
৮:৩২ এএম, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

অবৈধ মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধে ১৬ ডিসেম্বর থেকে চালু হচ্ছে এনইআইআর টেলিকম খাতে নতুন যুগের সূচনা

দেশে অবৈধ ও নিবন্ধনবিহীন মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যক্রম শুরু হচ্ছে ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর), যা মোবাইল ফোনের বৈধতা যাচাইয়ের এক কেন্দ্রীভূত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এই ব্যবস্থা চালু হলে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে শুধু অনুমোদিত ফোনই ব্যবহার করা যাবে, অবৈধ ফোনের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। […]

অবৈধ মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধে ১৬ ডিসেম্বর থেকে চালু হচ্ছে এনইআইআর টেলিকম খাতে নতুন যুগের সূচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

দেশে অবৈধ ও নিবন্ধনবিহীন মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যক্রম শুরু হচ্ছে ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর), যা মোবাইল ফোনের বৈধতা যাচাইয়ের এক কেন্দ্রীভূত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এই ব্যবস্থা চালু হলে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে শুধু অনুমোদিত ফোনই ব্যবহার করা যাবে, অবৈধ ফোনের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, “এনইআইআর চালু হলে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। এটি একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা, যেখানে প্রতিটি মোবাইল ফোনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত আইএমইআই নম্বর ব্যবহারকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ব্যবহৃত সিমের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।”

এই আধুনিক ব্যবস্থা মোবাইল ফোনের বৈধতা যাচাই সহজতর করবে। অবৈধভাবে আমদানি করা বা নকল মোবাইল ফোন দ্রুত শনাক্ত হয়ে নিষিদ্ধ করা সম্ভব হবে। এর ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি রোধ হবে এবং দেশীয় মোবাইল উৎপাদন শিল্পের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও জানান, এনইআইআর শুধু প্রযুক্তিগত নয়, এটি নাগরিক নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে একটি জাতীয় অঙ্গীকার। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অপরাধে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দ্রুত চিহ্নিত করে ব্লক করা যাবে, যা অপরাধ দমনে বড় ভূমিকা রাখবে।

বিটিআরসির পাশাপাশি দেশের চারটি প্রধান মোবাইল অপারেটর—গ্রামীণফোন, রবি আজিয়াটা, বাংলালিংক ও টেলিটক—নিজেদের ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (ইআইআর) সিস্টেম উন্নয়নে কাজ করছে। এই সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) জালিয়াতি, সিম প্রতারণা ও বিভিন্ন স্ক্যাম প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে।

এনইআইআর ব্যবস্থার মাধ্যমে ইলেকট্রনিক কেওয়াইসি (eKYC) যাচাই আরও শক্তিশালী হবে, যা টেলিকম খাতের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি, সরকারের রাজস্ব আদায়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মী ও অপারেটরদের উদ্দেশে বলেন, “১৬ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশের টেলিকম খাত একটি নতুন, নিরাপদ ও স্বচ্ছ যুগে প্রবেশ করবে। সবাইকে অনুরোধ করছি, এই উদ্যোগ সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দিন এবং বৈধ মোবাইল ফোন ব্যবহারে উৎসাহিত করুন।”

সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারীসহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এনইআইআর-এর কার্যক্রম শুরু হওয়ায় মোবাইল ফোন বাজারে অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকানো সম্ভব হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অবৈধ মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি প্রতিরোধ হবে এবং টেলিকম খাতের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে। নাগরিকদের জন্য এটি একটি নিরাপদ মোবাইল ব্যবহারের পরিবেশ সৃষ্টি করবে, যা বিশেষ করে মোবাইল ব্যাংকিং ও ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধী ও প্রতারকদের চিহ্নিতকরণ ও দমনেও এই ব্যবস্থা বড় ভূমিকা রাখবে, ফলে সামগ্রিকভাবে দেশের আইনের শৃঙ্খলা দৃঢ় হবে।

অপারেটর ও গ্রাহকদের জন্য এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন, কারণ বৈধতার নিশ্চয়তা মোবাইল সেবা ব্যবহারে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। প্রযুক্তিগত এই পদক্ষেপ দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং টেলিকম খাতের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ