সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

তথ্যপ্রযুক্তি
১:৫৭ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ, যেভাবে আবেদন করবেন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত সহকারী সিরির কয়েকটি ফিচার নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগে গ্রাহকদের ২৫ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। যুক্তরাষ্ট্রে গ্রাহকদের পক্ষে দায়ের করা একটি শ্রেণিবদ্ধ মামলার নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে এই অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে চুক্তিটি এখনো আদালতের চূড়ান্ত […]

আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ, যেভাবে আবেদন করবেন

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত সহকারী সিরির কয়েকটি ফিচার নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগে গ্রাহকদের ২৫ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। যুক্তরাষ্ট্রে গ্রাহকদের পক্ষে দায়ের করা একটি শ্রেণিবদ্ধ মামলার নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে এই অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে চুক্তিটি এখনো আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, অ্যাপল তাদের বিজ্ঞাপনে সিরির উন্নত এআই সক্ষমতার কথা তুলে ধরেছিল। বিশেষ করে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের সঙ্গে যুক্ত নতুন সিরি নিয়ে এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল যে, এসব সুবিধা আইফোনের সংশ্লিষ্ট মডেলগুলোতে পাওয়া যাবে। কিন্তু ডিভাইসগুলো বাজারে আসার সময় বিজ্ঞাপনে দেখানো কিছু উন্নত সুবিধা পাওয়া যায়নি। এ কারণে গ্রাহকেরা বিভ্রান্ত হয়ে এসব আইফোন কিনেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। অ্যাপল অবশ্য কোনো ধরনের অন্যায় বা দায় স্বীকার করেনি।

এই মামলার নিষ্পত্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যোগ্য আইফোন কেনা গ্রাহকেরা ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রতি যোগ্য ডিভাইসের জন্য প্রাথমিকভাবে ২৫ মার্কিন ডলার দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে বৈধ দাবির মোট সংখ্যা এবং অন্যান্য অনুমোদিত খরচের ওপর ভিত্তি করে এই অর্থ বাড়তে বা কমতে পারে। সর্বোচ্চ ৯৫ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। চূড়ান্তভাবে কে কত অর্থ পাবেন, তা সব আবেদন যাচাই ও বৈধ দাবির সংখ্যা নির্ধারণের পর জানা যাবে।

কারা আবেদন করতে পারবেন

নিষ্পত্তির আওতায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেনা কিছু আইফোন মডেল। যোগ্য মডেলগুলোর মধ্যে রয়েছে আইফোন ১৬, আইফোন ১৬ই, আইফোন ১৬ প্লাস, আইফোন ১৬ প্রো, আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স, আইফোন ১৫ প্রো এবং আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স। এসব ডিভাইস ২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে কিনতে হয়েছে এবং পুনর্বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে কেনা হলে তা এই শ্রেণির আওতায় পড়বে না।

এ ছাড়া ক্ষতিপূরণ পেতে আবেদনকারীকে বলতে হবে যে, ডিভাইসটি কেনার সময় তিনি নির্দিষ্ট সিরি এআই ফিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলেন, কিন্তু সেগুলো পাননি। কেনাকাটা ও ডিভাইসের মালিকানা যাচাই করার মতো তথ্যও দিতে হবে।

কীভাবে আবেদন করবেন

আগ্রহী গ্রাহকেরা নির্দিষ্ট নিষ্পত্তি ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন প্রক্রিয়া ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে চালু হয়েছে এবং ২১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। সরকারি নিষ্পত্তি ওয়েবসাইট হলো স্মার্টফোনএআইসেটেলমেন্ট ডট কম।

আবেদন করার সময় নিজের নাম, বর্তমান যোগাযোগের তথ্য এবং যোগ্য আইফোন কেনা ও মালিকানার বিষয়টি নিশ্চিত করার প্রয়োজন হবে। ওয়েবসাইটের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি যোগ্য ডিভাইসের জন্য আলাদা করে আবেদন করা যাবে। ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য গ্রাহককে নিজেই বৈধ দাবি ফরম পূরণ করে জমা দিতে হবে।

ক্ষতিপূরণের অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহক কাগজের চেক অথবা ডিজিটাল চেক বেছে নিতে পারবেন। তবে শুধু যোগ্য ডিভাইস থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা পাওয়া যাবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৈধ দাবি ফরম জমা দিতে হবে।

কবে পাওয়া যাবে টাকা

ক্ষতিপূরণ বণ্টনের আগে আদালতকে প্রস্তাবিত নিষ্পত্তির চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে হবে। এ বিষয়ে ২০২৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় ফেডারেল আদালতের সান হোসে আদালত ভবনে শুনানিটি হবে।

আদালত নিষ্পত্তি অনুমোদন করলে এবং কোনো আপিল না হলে এরপর ক্ষতিপূরণ বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সরকারি নিষ্পত্তি ওয়েবসাইট জানিয়েছে, চূড়ান্ত অনুমোদনের পরও আপিল হলে অর্থ পেতে আরও সময় লাগতে পারে।

কেন মামলা হয়েছিল

২০২৪ সালে অ্যাপল নতুন এআই সক্ষমতাসম্পন্ন সিরির বিভিন্ন সুবিধা প্রদর্শন করে। মামলার বাদীদের অভিযোগ ছিল, এসব প্রচারের মাধ্যমে এমন একটি প্রত্যাশা তৈরি করা হয়েছিল যে আইফোন ১৬ বাজারে আসার সময় উন্নত সিরি ফিচারগুলোও পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবে ডিভাইসগুলোতে সেই সুবিধাগুলোর একটি অংশ ছিল না এবং পরে সেগুলোর প্রকাশ বিলম্বিত হয়। এ কারণেই গ্রাহকদের পক্ষে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের অভিযোগে মামলা করা হয়।

পরে অ্যাপল ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের নিষ্পত্তিতে সম্মত হয়। তবে সরকারি নিষ্পত্তি নথিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই সমঝোতা অ্যাপলের কোনো দোষ বা অন্যায় স্বীকার করার অর্থ নয়। আদালতও এখনো মামলার মূল অভিযোগের পক্ষে বা বিপক্ষে চূড়ান্ত রায় দেয়নি; উভয় পক্ষ মামলা নিষ্পত্তিতে সম্মত হয়েছে।

ফলে যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যোগ্য আইফোন কেনা গ্রাহকদের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি ফরম জমা দেওয়া। ২১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর পর নতুন করে দাবি দাখিলের সুযোগ থাকবে না।

সূত্র: রয়টার্স, দ্য ভার্জ ও অ্যাপল সিরি এআই নিষ্পত্তির সরকারি ওয়েবসাইট।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ