চার বছর বয়সেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে অভিনয় শুরু করেছিলেন তিনি। শিশুশিল্পী হিসেবে তামিল চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু হলেও খুব দ্রুতই দক্ষিণ ভারতের দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বলিউডে প্রবেশ করে হয়ে ওঠেন পুরো ভারতীয় সিনেমার অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র—কিংবদন্তি অভিনেত্রী শ্রীদেবী। ১৯৬৩ সালের ১৩ আগস্ট তামিলনাড়ুতে জন্ম নেওয়া শ্রী আম্মা ইয়াঙ্গের আয়াপ্পনই পরবর্তীকালে পরিচিত […]
ছবি: সংগৃহীত
চার বছর বয়সেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে অভিনয় শুরু করেছিলেন তিনি। শিশুশিল্পী হিসেবে তামিল চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু হলেও খুব দ্রুতই দক্ষিণ ভারতের দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বলিউডে প্রবেশ করে হয়ে ওঠেন পুরো ভারতীয় সিনেমার অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র—কিংবদন্তি অভিনেত্রী শ্রীদেবী।
১৯৬৩ সালের ১৩ আগস্ট তামিলনাড়ুতে জন্ম নেওয়া শ্রী আম্মা ইয়াঙ্গের আয়াপ্পনই পরবর্তীকালে পরিচিত হন শ্রীদেবী নামে। রোমান্টিক, কমেডি কিংবা আবেগঘন চরিত্র—সব ধরনের ভূমিকায় অসাধারণ দক্ষতার সঙ্গে নিজেকে মেলে ধরেছেন তিনি। পর্দায় তার উপস্থিতি মানেই দর্শকের জন্য এক আলাদা অনুভূতি।
প্রায় পাঁচ দশকের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মালয়ালম ও কন্নড় ভাষায় তিন শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে ছিলেন বলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রীদের একজন। অভিনয়ে অনন্য অবদানের জন্য অর্জন করেছেন পদ্মশ্রী, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও একাধিক ফিল্মফেয়ার সম্মাননা।
দীর্ঘ বিরতির পর ২০১২ সালে ‘ইংলিশ ভিংলিশ’ ছবির মাধ্যমে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটে তার। সেই ছবিতে মধ্যবিত্ত নারীর আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাসের গল্পে নতুন প্রজন্মকেও মুগ্ধ করেন তিনি। এরপর ২০১৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মম’ ছিল তার ক্যারিয়ারের শেষ চলচ্চিত্র।
২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ের একটি হোটেলে হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেন শ্রীদেবী। মাত্র ৫৪ বছর বয়সে তার এই আকস্মিক প্রয়াণ পুরো ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নামিয়ে আনে। শুরুতে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলা হলেও, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি ঘিরে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়।
আজ আট বছর পেরিয়ে গেলেও শ্রীদেবীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি। রহস্যের এই আবরণ এখনো কাটেনি। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—মৃত্যু তাকে থামাতে পারেনি। রূপালি পর্দায়, দর্শকের ভালোবাসায় এবং স্মৃতিতে শ্রীদেবী আজও অমর।