হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে দেশটিকে “পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে”। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, দেশটির কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার এবং বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, […]
ফাইল ছবি
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে দেশটিকে “পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে”।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, দেশটির কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার এবং বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যা প্রয়োজনে দ্রুত ও কঠোর জবাব দিতে সক্ষম।
তার এই বক্তব্যের ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার ইরানের বিরুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলার অভিযোগ ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, তারা হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের সাতটি ছোট নৌযান ডুবিয়ে দিয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ করে দেওয়া এবং সম্ভাব্য অবরোধ ভেঙে দেওয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানান, ওই এলাকায় ৮৭টি দেশের জাহাজ আটকে রয়েছে। তিনি বলেন, এসব জাহাজকে নিরাপদে পারাপারের জন্য সংশ্লিষ্ট শিপিং কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা IRNA, তারা একে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূলে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি জাহাজে বিস্ফোরণ এবং একই এলাকায় আরও দুটি জাহাজে হামলার তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স। এসব ঘটনার পর হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ এই প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।