ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, দেশটির মিনাব শহরের একটি স্কুলে হামলার ঘটনা ইরানের জনগণ কখনো ভুলবে না এবং ক্ষমাও করবে না। তেহরানে ওই স্কুলের নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে আয়োজিত একটি শিল্প প্রদর্শনী পরিদর্শনের সময় তিনি এ কথা বলেন। খবর আলজাজিরার। প্রদর্শনীতে বক্তব্য দেওয়ার সময় আরাগচি বলেন, মিনাব স্কুলের নিহত শিক্ষার্থীরা ইরানের কাছে ‘বীরত্বের প্রতীকে’ পরিণত হয়েছে। […]
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, দেশটির মিনাব শহরের একটি স্কুলে হামলার ঘটনা ইরানের জনগণ কখনো ভুলবে না এবং ক্ষমাও করবে না। তেহরানে ওই স্কুলের নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে আয়োজিত একটি শিল্প প্রদর্শনী পরিদর্শনের সময় তিনি এ কথা বলেন। খবর আলজাজিরার।
প্রদর্শনীতে বক্তব্য দেওয়ার সময় আরাগচি বলেন, মিনাব স্কুলের নিহত শিক্ষার্থীরা ইরানের কাছে ‘বীরত্বের প্রতীকে’ পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ইরানের জনগণ ওই হামলার কথা কখনো ভুলবে না এবং ক্ষমা করবে না।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ইরান ওই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে। হামলার পর স্কুলটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও কর্মী নিহত হন।
আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় নিহতের সংখ্যা পরে ১৬৫ জনে পৌঁছায়। অন্যদিকে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে আলজাজিরা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল স্কুলছাত্রী।
আলজাজিরার অনুসন্ধানেও বলা হয়েছে, শাজারেহ তাইয়্যেবেহ স্কুলটি মিনাব শহরের একটি সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি হলেও স্কুলটি ওই স্থাপনা থেকে আলাদা ছিল। হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যবহৃত তথ্যের নির্ভুলতা নিয়েও এতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
তবে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এর দায় অস্বীকার করে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্বাধীন অনুসন্ধানে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও হামলার দায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
মিনাবের ওই হামলা যুদ্ধের শুরুতে ইরানে বেসামরিক প্রাণহানির সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি হয়ে ওঠে। স্কুলে হামলার পর ইরানি কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে বেসামরিক জনগণের ওপর হামলার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।
ছয় মাস পর নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে আয়োজিত প্রদর্শনীতে আরাগচির বক্তব্যে আবারও সেই হামলার প্রসঙ্গ সামনে এল। তিনি স্পষ্ট করে দেন, মিনাবের স্কুলে প্রাণ হারানো শিক্ষার্থীদের স্মৃতি ইরানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এবং ঘটনাটিকে তারা ভুলে যেতে রাজি নয়।