সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
২:১৩ পিএম, ২৯ আগস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানি প্রেসিডেন্টের বার্তা, ‘অস্থিরতা সৃষ্টি করবেন না’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, সংলাপ ও পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে এগোতে পারলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব। শনিবার (২৯ আগস্ট) তেহরানে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পেজেশকিয়ান বলেন, সংলাপের মাধ্যমে এবং দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের […]

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানি প্রেসিডেন্টের বার্তা, ‘অস্থিরতা সৃষ্টি করবেন না’

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, সংলাপ ও পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে এগোতে পারলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব। শনিবার (২৯ আগস্ট) তেহরানে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পেজেশকিয়ান বলেন, সংলাপের মাধ্যমে এবং দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে এগোতে পারলে সমস্যাগুলোর সমাধান এবং ইরানের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব।

ট্রাম্পের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশ, অঞ্চল ও বিশ্বের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের অস্থিরতা সৃষ্টি করা উচিত নয়। একই সঙ্গে ইসরাইলের ‘নিরাপত্তাহীনতা ও আগ্রাসন’ উসকে দেওয়ার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি।

ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, তার দেশ যুদ্ধ চায় না। তবে কোনো ধরনের আগ্রাসনের মুখে ইরান শক্ত অবস্থান নেবে এবং নিজেদের রক্ষা করবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ একটি জাতিকে কোনো শক্তিই আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, ইরান সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পথ খোলা রাখতে চায়। তবে হুমকি বা সামরিক চাপের মুখে ইরানের জনগণ, সরকারি কর্মকর্তা এবং সামরিক কমান্ডাররা আত্মসমর্পণ করবেন না।

ইসরাইল মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন পেজেশকিয়ান। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতা বাড়ানো গেলে এ ধরনের প্রচেষ্টা মোকাবিলা করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। শুক্রবারের এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারেও তিনি প্রতিবেশী ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় অর্থনীতি চাপে

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ ইরানের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে বলে স্বীকার করেছেন পেজেশকিয়ান। শুক্রবার রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধের কারণে ইরানের রপ্তানি ও আমদানি প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ কমেছে।

তিনি বলেন, যারা মনে করেন নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রভাব নেই, তাদের তিনি কী বলবেন তা জানেন না। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘যুদ্ধকালীন অবস্থা’ হিসেবে মেনে নিয়ে দেশকে সেই অনুযায়ী প্রস্তুত করার কথাও জানান তিনি।

পেজেশকিয়ান আরও জানান, জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক কার্যকর থাকার সময়ে ইরান প্রায় ৯ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছিল। তার মতে, দুই পক্ষ নিজেদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এগোলে আলোচনা আবারও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

যুদ্ধের প্রভাবে অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত

তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ-সাদেক মোতামেদিয়ান জানিয়েছেন, যুদ্ধের সময় ইরানের বিভিন্ন অবকাঠামো হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, পানি, টেলিযোগাযোগ ও গ্যাস অবকাঠামোও রয়েছে।

তার দাবি, শুধু তেহরান প্রদেশেই বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ১ হাজার ২০০টির বেশি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছিল। তবে হামলার পর দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

মোতামেদিয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, নৌ অবরোধ এবং অবকাঠামোয় হামলার কারণে দেশের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল।

তেল বিক্রির অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে

অন্যদিকে আধা-সরকারি ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, চলতি ইরানি বছরের প্রথম চার মাসে তেল বিক্রি থেকে পাওয়া ৭৫০ কোটি ডলার রাজস্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তেল মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ২০২৬ সালের ২১ মার্চ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত তেল রাজস্ব বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এই অর্থ জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা করবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কূটনীতি ও প্রতিরক্ষাকে একসঙ্গে দেখছে তেহরান

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও ইরান যেগুলোকে ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ষড়যন্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করছে, তার বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকার কথা জানিয়েছে ইরান সরকার।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সরকার বলেছে, জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় কূটনীতি ও প্রতিরক্ষার পথ একসঙ্গে অনুসরণ করা হবে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা পরস্পরের পরিপূরক ও অবিচ্ছেদ্য।

একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং ধীরে ধীরে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।

ইরানের সাম্প্রতিক অবস্থানে তাই দুই ধরনের বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার দরজা খোলা রাখার আগ্রহ, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রস্তুতি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ