সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
২:২৬ পিএম, ১৯ মার্চ ২০২৬

ইরান ইস্যুতে চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র, বাড়ছে বৈশ্বিক উদ্বেগ

মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির প্রেক্ষাপটে প্রভাবশালী কূটনীতিক হেনরি আলফ্রেড কিসিঞ্জার-এর একটি পুরোনো মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ১৯৬৮ সালে রিচার্ড নিক্সন প্রশাসনের সময় তিনি বলেছিলেন, “আমেরিকার শত্রু হওয়া বিপজ্জনক, তবে বন্ধু হওয়া আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।” সাম্প্রতিক সময়ে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে উক্তিটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানবিরোধী সামরিক অবস্থানকে কেন্দ্র […]

ইরান ইস্যুতে চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র, বাড়ছে বৈশ্বিক উদ্বেগ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির প্রেক্ষাপটে প্রভাবশালী কূটনীতিক হেনরি আলফ্রেড কিসিঞ্জার-এর একটি পুরোনো মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ১৯৬৮ সালে রিচার্ড নিক্সন প্রশাসনের সময় তিনি বলেছিলেন, “আমেরিকার শত্রু হওয়া বিপজ্জনক, তবে বন্ধু হওয়া আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।” সাম্প্রতিক সময়ে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে উক্তিটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানবিরোধী সামরিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত শুধু ইরান, ইসরাইল বা যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং এর প্রভাব গোটা মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক পরিসরে ছড়িয়ে পড়ছে।

এই সংঘাতের ফলে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়ার পাশাপাশি বহু দেশে মানবিক সংকট তীব্রতর হয়েছে। বিশেষ করে লেবাননসহ বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে, যেমন সৌদি আরব, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত—যারা অতীতের মতো বর্তমানেও এই উত্তেজনার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে, যার ফলে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি, সুদের হার ঊর্ধ্বগতি এবং খাদ্য সংকটের আশঙ্কা বাড়তে পারে।

সমালোচকরা এই পরিস্থিতির জন্য ট্রাম্প প্রশাসন এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের নীতিকে দায়ী করছেন। তাদের মতে, এমন এক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সংঘাত শুরু করা হয়েছে, যেখান থেকে তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি ছিল না। এমনকি সম্ভাব্য পরিণতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতিও ছিল না বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। সিএনএন জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ঝুঁকি—যেমন হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা—পর্যাপ্তভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলো এই সংঘাতে সরাসরি জড়াতে না চাইলেও তাদের ওপর এর প্রভাব পড়ছে। বদর আলবুসাইদি প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, ওয়াশিংটন শুধু ইরানকে দুর্বল করতে নয়, বরং পুরো অঞ্চলকে নতুনভাবে সাজাতে চায়। তার মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক ভারসাম্যকে আরও নাজুক করে তুলছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাব ও সামরিক নির্ভরতার কারণে মিত্র দেশগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারছে না। তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক দেশই নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার কৌশল কতটা নিরাপদ বা টেকসই।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত শুধু একটি আঞ্চলিক সংকট নয়; বরং এটি বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ