পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা আরও একদিন বাড়ানোর জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত একাধিক দফার বৈঠক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলছে। শনিবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে অংশ নেওয়া দুই দেশের প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিক আলোচনার বাইরে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগও বজায় রেখেছেন। একাধিক সূত্রের দাবি, […]
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা আরও একদিন বাড়ানোর জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত একাধিক দফার বৈঠক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলছে।
শনিবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে অংশ নেওয়া দুই দেশের প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিক আলোচনার বাইরে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগও বজায় রেখেছেন। একাধিক সূত্রের দাবি, বৈঠকের ফাঁকে তারা একসঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন, যা পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে লিখিত নোট ও প্রস্তাব বিনিময় চলছে।
ইরানি পক্ষের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। তারা বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়ে সমাধানের নতুন পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতির পর দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক কাঠামো কীভাবে এগোনো যায়, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়েও আলোচনা চলছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান অন্তত আরও একটি দিন সময় বাড়িয়ে আরেক দফা মুখোমুখি বৈঠকের সুযোগ তৈরি করতে চায়। ইসলামাবাদের কূটনৈতিক মহল মনে করছে, অতিরিক্ত এই সময়টি দুই পক্ষকে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতার কাছাকাছি নিতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
পাকিস্তানি কূটনীতিকরা পুরো প্রক্রিয়ায় আশাবাদী অবস্থান বজায় রেখেছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষকেই আরও নমনীয় অবস্থানে আসতে উৎসাহিত করছেন। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা–সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে ছাড়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি মুখোমুখি আলোচনা শুরু হওয়াটাই বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় অগ্রগতি। তবে একটি স্থায়ী ও কার্যকর সমাধানে পৌঁছাতে হলে আরও সময়, পারস্পরিক আস্থা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন হবে। তাদের মতে, আলোচনার সময়সীমা আরও একদিন বাড়ানো গেলে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদের এই সংলাপ এখন শুধু দুই দেশের জন্য নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।