সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
২:০১ পিএম, ৫ জুন ২০২৬

ঈদুল গাদির উপলক্ষে ২ হাজারের বেশি বন্দিকে ক্ষমার নির্দেশ দিলেন মোজতবা খামেনি

ইরানের শিয়া মুসলিমদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল গাদির উপলক্ষে ২ হাজারের বেশি দণ্ডিত ব্যক্তিকে সাধারণ ক্ষমা ও সাজা লাঘবের অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজেইর প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই ক্ষমার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। সাধারণ আদালত, বিপ্লবী আদালত, সামরিক […]

ঈদুল গাদির উপলক্ষে ২ হাজারের বেশি বন্দিকে ক্ষমার নির্দেশ দিলেন মোজতবা খামেনি

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

ইরানের শিয়া মুসলিমদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল গাদির উপলক্ষে ২ হাজারের বেশি দণ্ডিত ব্যক্তিকে সাধারণ ক্ষমা ও সাজা লাঘবের অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।

ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজেইর প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই ক্ষমার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। সাধারণ আদালত, বিপ্লবী আদালত, সামরিক ট্রাইব্যুনাল এবং বিভিন্ন সরকারি দণ্ড কার্যকরকারী প্রতিষ্ঠানে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের একটি অংশ এই সুযোগ পাচ্ছেন।

ইরানের বিচার বিভাগের কর্মকর্তা আলি মোজাফারি জানিয়েছেন, যেসব বন্দির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগ নেই, গুরুতর অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং যারা কারাভোগের সময় সংশোধনের লক্ষণ দেখিয়েছেন—মূলত তাদেরকেই এই ক্ষমার আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, বন্দিদের বয়স, পারিবারিক অবস্থা, অপরাধের ধরন এবং সামাজিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদিত বন্দিদের মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

আলি মোজাফারি বলেন, “বিচার ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য শুধু শাস্তি দেওয়া নয়, সংশোধনের সুযোগ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি যদি সংশোধনের প্রমাণ দিতে পারেন, তাহলে সবসময় তাকে দীর্ঘসময় কারাগারে রাখার প্রয়োজন হয় না।”

তবে জাতীয় নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধ, গুপ্তচরবৃত্তি, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ মামলার আসামিদের এই ক্ষমার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে বলে স্পষ্ট করেছে ইরানের বিচার বিভাগ।

এ ছাড়া যেসব মামলায় ব্যক্তিগত অভিযোগকারী রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর সম্মতি ছাড়া সাজা মওকুফ বা কমানো হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

ইরানে ধর্মীয় ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতে বন্দিদের সাধারণ ক্ষমা দেওয়ার দীর্ঘদিনের প্রচলন রয়েছে। ঈদুল গাদির শিয়া মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় দিন। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, গাদির খুমে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই দিনে হজরত আলী (রা.)-কে তার উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।

বিচার বিভাগ জানিয়েছে, প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় ক্ষমা কমিটিগুলো ছুটির মধ্যেও দ্রুততার সঙ্গে যোগ্য বন্দিদের তালিকা যাচাই করেছে এবং পুরো প্রক্রিয়া আইনগত কাঠামোর মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হয়েছে।

সূত্র: প্রেস টিভি

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ