সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

সারাবাংলা
২:৩২ পিএম, ৯ এপ্রিল ২০২৬

এক বিয়েতে দুই কাবিন, কারাগারে কাজী

একই বিয়ের জন্য ভিন্ন দুই ধরনের কাবিননামা সরবরাহের অভিযোগে নীলফামারীর কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল মজিদ ওরফে এম এ মজিদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জ আমলী আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী এ আদেশ দেন। মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল নীলফামারী সদরের হাড়োয়া ধনীপাড়া এলাকার রমজান আলীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জ উপজেলার […]

এক বিয়েতে দুই কাবিন, কারাগারে কাজী

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

একই বিয়ের জন্য ভিন্ন দুই ধরনের কাবিননামা সরবরাহের অভিযোগে নীলফামারীর কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল মজিদ ওরফে এম এ মজিদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জ আমলী আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী এ আদেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল নীলফামারী সদরের হাড়োয়া ধনীপাড়া এলাকার রমজান আলীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর কালিকাপুর খামাতপাড়া গ্রামের মেরি আক্তারের বিয়ে হয়। সে সময় চার লাখ ২৫ হাজার টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। তাদের সংসারে একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে।

পরবর্তীতে দাম্পত্য জীবনে কলহ শুরু হলে স্ত্রী মেরি আক্তারের কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে না পারায় তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনায় মেরি আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলার শুনানির সময় বাদী ও বিবাদী পক্ষ আদালতে কাবিননামা জমা দিলে একই বিয়ের বিপরীতে দুটি আলাদা নথি দেখে আদালতের সন্দেহ হয়। পরে যাচাইয়ে দেখা যায়, নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল মজিদের দেওয়া কাবিননামা দুটির তথ্য এক নয় এবং নথিতে অসঙ্গতি রয়েছে। বিষয়টি জালিয়াতি হিসেবে প্রতীয়মান হওয়ায় বিচারক তাৎক্ষণিকভাবে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. কামরুজ্জামান শাসন বলেন, একই বিয়ের জন্য দুই ধরনের কাবিননামা প্রদান করা আইনগতভাবে গুরুতর অপরাধ। আদালতের পর্যালোচনায় জালিয়াতির বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ায় এই আদেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, তাদের বিয়ের নথিতেও একই ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে এবং এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে।

জেলা কাজী সমিতির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও বলেছেন, কুন্দুপুকুর ইউনিয়নে কাজী নিয়োগ নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক ছিল। সেই সুযোগে ভুয়া নথি তৈরি ও প্রতারণার অভিযোগে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে কঠোর শাস্তি জরুরি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ