ভারতের বুকারজয়ী লেখক অরুন্ধতী রায় বলেছেন, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন তরুণদের সাম্প্রতিক আন্দোলন মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা জনভাবমূর্তিতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। তার মতে, এই রাজনৈতিক অভিঘাত অনেক ক্ষেত্রে একটি নির্বাচনী বিজয়ের চেয়েও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। সোমবার (৩ আগস্ট) নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে (আইআইসি) তার বই মেরি মা, […]
ভারতের বুকারজয়ী লেখক অরুন্ধতী রায় বলেছেন, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন তরুণদের সাম্প্রতিক আন্দোলন মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা জনভাবমূর্তিতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। তার মতে, এই রাজনৈতিক অভিঘাত অনেক ক্ষেত্রে একটি নির্বাচনী বিজয়ের চেয়েও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।
সোমবার (৩ আগস্ট) নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে (আইআইসি) তার বই মেরি মা, মেরি গ্যাংস্টার-এর হিন্দি সংস্করণের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
অরুন্ধতী রায় বলেন, রাজনীতিতে শুধু নির্বাচনে জয়লাভই সবকিছু নয়। অনেক সময় জনতার আন্দোলন বহু বছর ধরে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক বয়ান ও নেতার ভাবমূর্তিকেও অল্প সময়ের মধ্যে বদলে দিতে পারে।
তিনি দাবি করেন, বিপুল অর্থ ব্যয় করে প্রায় ২৪ বছরে যে রাজনৈতিক ভাবমূর্তি তৈরি করা হয়েছিল, তা মাত্র দুই সপ্তাহের আন্দোলনেই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তার ভাষায়, এটি কেবল একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়, বরং জনমতের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
তবে আন্দোলনের সাফল্যকে চূড়ান্ত বলে মনে না করার আহ্বানও জানান এই লেখক। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকলে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর সামনে এখনো কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
বিরোধী রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে অরুন্ধতী রায় বলেন, জন্তর মন্তরের আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণরা মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দায়িত্বশীল আচরণের পরিচয় দিয়েছেন, যা অন্যদের জন্যও অনুসরণীয়।
একটি সংগীত দলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যেমন একটি ব্যান্ডে প্রত্যেক সদস্য নিজ নিজ ভূমিকা পালন করে একটি অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখেন, তেমনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে নিজের নতুন বই সম্পর্কেও কথা বলেন অরুন্ধতী রায়। তিনি জানান, মেরি মা, মেরি গ্যাংস্টার তার আত্মজীবনী নয়, বরং মা ও মেয়ের জটিল সম্পর্ককে কেন্দ্র করে রচিত একটি বই। বইয়ে মাকে “গ্যাংস্টার” হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন বলেও ব্যাখ্যা করেন তিনি।
ব্যক্তিগত অর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যখনই তিনি কোনো পুরস্কার বা সম্মাননা পান, তখন তার মনে হয় পৃথিবীর কোথাও না কোথাও মানুষ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। গাজা, প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষ কিংবা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথাও তিনি এ সময় উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের শেষদিকে অরুন্ধতী রায় বলেন, অন্যায়কে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়ার সময় শেষ হয়েছে। এখন নাগরিকদেরই প্রমাণ করতে হবে যে তারা অন্যায় ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে প্রস্তুত।
সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া