কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১১ জনে পৌঁছেছে। সোমবার ভোরের এই কম্পনে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছেন অনেকে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় অনেক বাসিন্দা বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) ভোরে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার […]
কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১১ জনে পৌঁছেছে। সোমবার ভোরের এই কম্পনে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছেন অনেকে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় অনেক বাসিন্দা বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) ভোরে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কেন্দ্র ছিল প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমারের কাছে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০৭ কিলোমিটার।
শক্তিশালী এই কম্পনের প্রভাব দেশটির বিভিন্ন বড় শহরেও অনুভূত হয়েছে। ইউএসজিএস ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।
এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর খবর এসেছে পশ্চিমাঞ্চলীয় রিসারালদা প্রদেশ থেকে। কফি উৎপাদনের জন্য পরিচিত এই প্রদেশের গভর্নর হুয়ান দিয়েগো পাতিনো জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত ৪২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রদেশটির রাজধানী পেরেইরাতেও ভূমিকম্পের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে একটি ভবনের সামনের অংশ ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। মুহূর্তের মধ্যে ধুলা ও ধ্বংসাবশেষে আশপাশ ঢেকে যায়। আতঙ্কিত মানুষ তখন রাস্তা থেকে দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
দেশটির অন্যতম বড় শহর ক্যালিও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরের মেয়র আলেহান্দ্রো এদের জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত ৩০টি ভবন ধসে পড়েছে। এর মধ্যে ১০টি ভবনে উদ্ধার অভিযান চলছে।
তবে ক্যালিতে এখন পর্যন্ত কতজন মারা গেছেন বা আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে পারেনি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা হুয়ান কার্লোস অসোরিও জানান, ধসে পড়া একটি ভবনের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। তার ভাষায়, ভবনটি ধসে পড়ার শব্দ বোমা বিস্ফোরণের মতো শোনায়।
তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই দলবদ্ধ হয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করছেন। মানবশৃঙ্খল তৈরি করে উদ্ধারকাজ চালানো হলেও আটকে পড়াদের উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন।
ভূমিকম্পে ম্যানিজালেস শহরের একটি নব্য-গথিক ক্যাথেড্রালের ওপরের টাওয়ারগুলোর একটি ভেঙে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ভবনের দেয়াল ও কাঠামোতে ফাটল দেখা দিয়েছে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকা চোকো প্রদেশেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্রাদেশিক গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্দোবা-কুরি জানান, রাজধানী কুইবদোতে প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য আফটারশক নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চোকোর গভর্নর। উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ভূমিকম্পের কারণে যোগাযোগব্যবস্থা ও স্থানীয় অবকাঠামোর ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র বের করতে বিভিন্ন এলাকায় জরিপ ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েল্লা দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই বড় ধরনের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়ল কলম্বিয়া। এর আগে গত জুনে প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলাতেও দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল।