যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) জুলাই মাসে প্রায় ৫১ হাজার মানুষকে আটক বা গ্রেপ্তার করেছে বলে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ সংখ্যা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এক মাসে ICE-এর গ্রেপ্তারের সর্বোচ্চ পর্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে প্রতিদিন গড়ে […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) জুলাই মাসে প্রায় ৫১ হাজার মানুষকে আটক বা গ্রেপ্তার করেছে বলে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ সংখ্যা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এক মাসে ICE-এর গ্রেপ্তারের সর্বোচ্চ পর্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৪৫ জনকে ICE-এর আওতায় নেওয়া হয়েছে। এর আগে জুনে প্রায় ৪৩ হাজার ১৩৮ জনকে ICE ডিটেনশনে বুক করা হয়েছিল, যা তখন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এক মাসে সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিল।
তবে জুলাইয়ের প্রায় ৫১ হাজারের হিসাব এবং ডিটেনশনে বুক হওয়ার সরকারি হিসাব এক নয়। বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিবেদনে অভিবাসনপ্রক্রিয়ার ভিন্ন পর্যায়ের সংখ্যা গণনা করা হয়েছে। ফলে কোথাও প্রায় ৫১ হাজার গ্রেপ্তারের হিসাব, আবার কোথাও ৪৬ হাজারের বেশি মানুষকে ডিটেনশনে বুক করার প্রাথমিক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে সংখ্যাগুলোকে একই সূচক হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
Washington Post-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাইয়ের প্রথম ১২ দিনেই ICE প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করছিল। সেই গতিতে চললে জুলাই মাসের মোট গ্রেপ্তার জুনের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।
জুনে ICE-এর ডিটেনশন ব্যবস্থায় ৪৩ হাজারের বেশি মানুষকে বুক করা হয়েছিল। ICE-এর প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে Los Angeles Times জানায়, জুনের সংখ্যা ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে তখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। একই সময়ে অক্টোবর থেকে জুন পর্যন্ত অর্থবছরে ৩ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি মানুষকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলেও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ICE-এর ডেটা অনুযায়ী, জুলাইয়ের ১১ তারিখ পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রায় ৬৫ হাজার ৭৬৫ জন মানুষ সংস্থাটির হেফাজতে ছিলেন। Transactional Records Access Clearinghouse (TRAC)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তাদের মধ্যে ৪৬ হাজারের বেশি মানুষের কোনো ক্রিমিনাল কনভিকশন ছিল না। অর্থাৎ ICE হেফাজতে থাকা মানুষের বড় একটি অংশের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড নেই।
Los Angeles Times-এর বিশ্লেষণেও একই ধরনের চিত্র উঠে এসেছে। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, জুনে দেশজুড়ে ICE ডিটেনশনে থাকা মানুষের গড় দৈনিক জনসংখ্যার প্রায় ৭৯ শতাংশের কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড ছিল না।
তবে ‘ক্রিমিনাল রেকর্ড নেই’ এবং ‘কোনো অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করেননি’—দুটি বিষয় এক নয়। একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের দণ্ড না থাকলেও তার অভিবাসন-সংক্রান্ত মামলা বা অনিয়ম থাকতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে দেশটিতে অনিয়মিতভাবে অবস্থানকারীদের শনাক্ত করা, আটক করা এবং বহিষ্কার করা।
বড় শহরে অভিযান চালানোর পাশাপাশি অভিবাসন আদালত, নিয়মিত চেক-ইন এবং অন্যান্য অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট স্থানেও ICE-এর কার্যক্রম বাড়ানোর খবর এসেছে। জুনের তথ্য বিশ্লেষণ করে Los Angeles Times জানিয়েছে, প্রশাসনের কৌশলে বড় আকারের অভিযানের পাশাপাশি আদালত ও নিয়মিত অভিবাসন প্রক্রিয়াকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে জুলাইয়ে ICE-এর গ্রেপ্তার বাড়ার সময় দেশটির বিভিন্ন অংশে সংস্থাটির কার্যক্রম নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। Washington Post জানিয়েছে, জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে ICE-এর গ্রেপ্তার বৃদ্ধির পাশাপাশি কয়েকটি ঘটনায় কর্মকর্তাদের গুলিতে মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও আলোচনায় আসে।
অভিবাসন অভিযান জোরদার হওয়ায় মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনাও বাড়ছে। তাদের প্রশ্ন, অভিযানের বড় অংশ যদি অপরাধে দণ্ডিত নন এমন অভিবাসীদের ওপরও পড়ে, তাহলে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘জননিরাপত্তা’কেন্দ্রিক যুক্তির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কতটা মিল রয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, ফেডারেল অভিবাসন আইন কার্যকর করা এবং যাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ভিত্তি রয়েছে, তাদের দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়াই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
জুলাইয়ের রেকর্ড গ্রেপ্তার ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির পরবর্তী ধাপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। প্রশাসন আরও বেশি মানুষকে আটক ও বহিষ্কারের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তবে একই সঙ্গে ডিটেনশন ব্যবস্থার ওপর চাপ, আদালত ব্যবস্থার সক্ষমতা, আটক ব্যক্তিদের আইনি অধিকার এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা ও না থাকার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ফলে জুলাইয়ের রেকর্ড সংখ্যার পর আগামী মাসগুলোতে ICE-এর গ্রেপ্তার, ডিটেনশন ও বহিষ্কারের প্রকৃত সংখ্যা কতটা বাড়ে, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।