সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

জাতীয়
১:৪২ পিএম, ২ জানুয়ারি ২০২৬

কারাগারে ভোটাধিকার: অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন ২ হাজার ৬৯৬ বন্দি

বিগত নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে কারাগারে থাকা ব্যক্তিরাও ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে দেশের ৬৮টি কারাগারে থাকা প্রায় ৮২ হাজার বন্দির মধ্যে ভোটের জন্য অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন মাত্র ২ হাজার ৬৯৬ জন। কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ওই নির্বাচনে মাত্র ১৩৯ জন […]

নির্বাচন কমিশন

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

বিগত নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে কারাগারে থাকা ব্যক্তিরাও ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে দেশের ৬৮টি কারাগারে থাকা প্রায় ৮২ হাজার বন্দির মধ্যে ভোটের জন্য অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন মাত্র ২ হাজার ৬৯৬ জন।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ওই নির্বাচনে মাত্র ১৩৯ জন কারাবন্দি ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। যদিও এবার আগ্রহ বেড়েছে, তবু মোট বন্দির তুলনায় নিবন্ধনের হার এখনও খুবই কম।

কারা অধিদপ্তর জানায়, ৩০ ডিসেম্বর বিকাল পর্যন্ত বন্দিদের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৯০০ জন নারী। তবে ৬৮টি কারাগারের মধ্যে মাত্র ৪০টি কারাগার থেকে বন্দিরা ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন।

পোস্টাল অ্যাপে ভোট দেবেন বন্দিরা

কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্দিদের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য কারাগারে সংরক্ষিত রয়েছে। নির্বাচন কমিশন বন্দিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য একটি বিশেষ ‘পোস্টাল অ্যাপ’ তৈরি করেছে। এই অ্যাপের মাধ্যমেই কারাবন্দিদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়েছে।

ভোটের দিন সংশ্লিষ্ট এলাকার নিবন্ধিত ভোটারদের জন্য নির্বাচন কমিশন আলাদাভাবে খাম পাঠাবে। এতে থাকবে তিনটি খাম, ব্যালট পেপার, ভোট প্রদানের নির্দেশনা ও স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত ফরম। বন্দিরা ব্যালট পেপারে ভোট প্রদান করে খাম সিল করবেন। এরপর ব্যালট পেপারের খাম ও স্বাক্ষরসংবলিত কাগজ আরেকটি খামে ভরে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবেন। কারা কর্তৃপক্ষ সেগুলো পোস্ট অফিসে পাঠাবে এবং ডাক বিভাগ এক্সপ্রেস ব্যবস্থায় খামগুলো নির্বাচন কমিশনের কাছে পৌঁছে দেবে। পরে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় এসব ভোট গণনায় যুক্ত করা হবে।

ভোটের দিন দায়িত্ব পালনকারী কারা কর্মকর্তারাও একই পদ্ধতিতে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন।

কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, “বন্দিদের এনআইডি তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তৈরি পোস্টাল অ্যাপের মাধ্যমে ৪০টি কারাগারের ২ হাজার ৬৯৬ জন বন্দির ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। অনলাইন নিবন্ধন শুরু হয়েছিল ২০ ডিসেম্বর এবং শেষ হয় ৩১ ডিসেম্বর।”

তিনি জানান, যেসব কারাগারে বন্দিরা ভোট দেবেন, সেখানে প্রয়োজনীয় কম্পিউটার, প্রিন্টারসহ কারিগরি সুবিধা রয়েছে কি না— তা নির্বাচন অফিস আগেই যাচাই করেছে। প্রয়োজনে সরঞ্জামও সরবরাহ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটের প্রতীক প্রিন্ট করে বন্দিদের দেখানো হবে, যাতে তারা সহজে প্রতীক চিনে ভোট দিতে পারেন।

কেন কম নিবন্ধন

৮২ হাজার বন্দির মধ্যে তুলনামূলকভাবে কমসংখ্যক নিবন্ধনের কারণ ব্যাখ্যা করে জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, “অনেক বন্দিরই ভোটার আইডি নেই। আবার পোস্টাল অ্যাপে একবার নিবন্ধন করলে ভোটের আগে জামিনে মুক্তি পেলে তিনি আর বাইরে ভোট দিতে পারবেন না। এমনকি নিজ এলাকার ভোটার তালিকাতেও এ বছর তার নাম থাকবে না। মুক্তির আশায় অনেক বন্দিই তাই ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করতে আগ্রহ দেখাননি।”

ইসির নির্দেশনা

নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ২০০৮ (সংশোধনী ২০২৫)-এর বিধি ১০ক অনুযায়ী, ‘ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিং’ (আইসিপিভি) পদ্ধতির মাধ্যমে এই প্রথমবারের মতো কারাগারে থাকা ব্যক্তিরা ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি কারাগারে বন্দিদের ভোটার নিবন্ধনের জন্য একটি বিশেষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থাকবে। কারা কর্তৃপক্ষ দুইজন প্রতিনিধি মনোনয়ন দেবেন, যারা নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। নিবন্ধিত ভোটারদের তালিকা সিল ও স্বাক্ষরসহ নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে হবে এবং একই সঙ্গে নির্ধারিত পোর্টালে প্রয়োজনীয় তথ্য আপলোড করতে হবে।

এ ছাড়া কারাগারের ভেতরে ভোট প্রদানের জন্য গোপন কক্ষ বা উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে খামগুলো সুরক্ষিতভাবে সংগ্রহ করে দ্রুত ডাক বিভাগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ