ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে প্রায় আট মাস ধরে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং দেশ পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক দাবি করেছেন, মোজতবা সুস্থ আছেন এবং নিরাপত্তার কারণে প্রকাশ্যে আসছেন না। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনডিটিভিকে দেওয়া […]
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে প্রায় আট মাস ধরে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং দেশ পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক দাবি করেছেন, মোজতবা সুস্থ আছেন এবং নিরাপত্তার কারণে প্রকাশ্যে আসছেন না।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আবদুল মজিদ হাকিম ইলাহি বলেন, মোজতবা খামেনি স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দাবি, গত সপ্তাহে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মোজতবার প্রায় সাত ঘণ্টার বৈঠক হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকারও তাঁর সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানান তিনি।
ইলাহির ভাষ্য, কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে মোজতবা সংবাদমাধ্যমের সামনে আসছেন না। তিনি আরও দাবি করেন, মোজতবা তাঁর বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন। এমনকি কিছু রাতে নিরাপত্তার মধ্যেই তিনি সাধারণ মানুষের বিক্ষোভেও অংশ নিয়েছেন বলে জানান এই কূটনীতিক। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো সাম্প্রতিক ছবি বা ভিডিও প্রকাশ্যে আসেনি।
হামলার পর থেকেই আড়ালে
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। একই হামলায় তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিও আহত হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে মার্চে তাঁকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মোজতবা লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। কিন্তু তাঁকে সরাসরি জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তাঁর বাবার শেষকৃত্যেও তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা না যাওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে জল্পনা আরও বেড়ে যায়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের আগস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর মোজতবা আড়ালে থেকেই দায়িত্ব পালন করছেন বলে ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করছেন। তবে তাঁর অনুপস্থিতি দেশটির নেতৃত্বের কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
নিরাপত্তা, নাকি শারীরিক জটিলতা?
মোজতবার দীর্ঘ অনুপস্থিতির পেছনে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা বলছেন ইরানি কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, সম্ভাব্য গুপ্তহত্যার ঝুঁকির কারণে তাঁকে জনসমক্ষে আনা হচ্ছে না। অন্যদিকে, হামলায় তাঁর মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
তবে তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য সীমিত। ইরানি কর্মকর্তারা তাঁকে সুস্থ ও সক্রিয় বলে দাবি করলেও, প্রকাশ্যে উপস্থিতি বা সাম্প্রতিক ভিডিও না থাকায় তাঁর অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ইরান কে পরিচালনা করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন
মোজতবার অনুপস্থিতির মধ্যেই ইরানের রাষ্ট্র পরিচালনায় কারা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইরানকে কে পরিচালনা করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো সম্পর্কে অনিশ্চয়তার কথা বলেছিলেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য এসব বক্তব্যের বিরোধিতা করেছে। দেশটির কর্মকর্তাদের দাবি, রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই চলছে এবং সর্বোচ্চ নেতা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখছেন।
সব মিলিয়ে, মোজতবা খামেনির জনসমক্ষে অনুপস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে ইরানি কর্মকর্তারা নিরাপত্তাঝুঁকির কথা বলছেন। তবে তাঁর স্বাস্থ্য, হামলায় পাওয়া আঘাতের প্রভাব এবং বাস্তবে রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনও সীমিত।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, রয়টার্স।