জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টারের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে জানা গেছে, গত জুলাই মাস পর্যন্ত গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের কারণে প্রায় এক লাখ ৯৩ হাজার ভবন ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই তথ্য বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। গাজার পরিস্থিতি দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ইসরাইলি বাহিনীর আক্রমণ থামেনি। ট্যাংক, যুদ্ধবিমান এবং নৌবাহিনীর গোলাবর্ষণের কারণে গাজার বিভিন্ন এলাকা এখনও […]
জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টারের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে জানা গেছে, গত জুলাই মাস পর্যন্ত গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের কারণে প্রায় এক লাখ ৯৩ হাজার ভবন ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই তথ্য বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
গাজার পরিস্থিতি দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ইসরাইলি বাহিনীর আক্রমণ থামেনি। ট্যাংক, যুদ্ধবিমান এবং নৌবাহিনীর গোলাবর্ষণের কারণে গাজার বিভিন্ন এলাকা এখনও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রতিক্রিয়ায় শুরু হওয়া এই অভিযান আজও অব্যাহত রয়েছে।
জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টার (UNOSAT) জানিয়েছে, গাজার মোট ভবনের প্রায় ৭৮ শতাংশ বা প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে ১ লাখ ২ হাজার ভবন সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে।
অন্যদিকে, মিশরের শারম আল-শেখে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে গাজার ইস্যু নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনা চলছে গাজার থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে। কিন্তু এই সংবেদনশীল আলোচনার মাঝেও গাজায় নতুন করে ইসরাইলি বাহিনীর হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
জাতিসংঘের বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, গাজার ২১৩টি হাসপাতাল এবং ১ হাজার ২৯টি স্কুল ইসরাইলি হামলার সরাসরি লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যে জানা যায়, গাজার ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ১৪টি অর্ধেক কার্যকর অবস্থায় আছে। দক্ষিণ গাজার হাসপাতালগুলো রোগী ভর্তি করতে সম্পূর্ণ পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গাজার প্রধান শহর গাজা সিটির ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক সংকট নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা পরিস্থিতির অবনতি রোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষণ ও প্রভাব
গাজার এই ধ্বংসযজ্ঞ শুধু এক দেশের নয়, পুরো অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসংখ্য নিরীহ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবিক সঙ্কটে পড়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অবনতি দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে গাজার জনগণের জীবনযাত্রায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা ও শান্তি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এখন অতীব জরুরি।