সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৪:৪৪ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০২৬

গাজা নিয়ে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মতপার্থক্য মেটাতে কূটনৈতিক সফরে যাচ্ছে ট্রাম্পের জামাতা কুশনার

গাজায় যুদ্ধ বন্ধ ও যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি নিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করতে আগামী সপ্তাহে ইসরাইল সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত ও তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার। কুশনারের সঙ্গে সফরে থাকবেন ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর […]

গাজা নিয়ে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মতপার্থক্য মেটাতে কূটনৈতিক সফরে যাচ্ছে ট্রাম্পের জামাতা কুশনার

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

গাজায় যুদ্ধ বন্ধ ও যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি নিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করতে আগামী সপ্তাহে ইসরাইল সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত ও তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার।

কুশনারের সঙ্গে সফরে থাকবেন ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর গাজাবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ। তাদের সফর শুধু ইসরাইলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী দেশ মিশরেও যাওয়ার কথা রয়েছে তাদের। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও প্রতিনিধি দলের সঙ্গে থাকার কথা রয়েছে।

এই সফরের মূল উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তৈরি গাজা পরিকল্পনা নিয়ে ইসরাইলের আপত্তি দূর করা। গত মাসের শেষ দিকে ‘বোর্ড অব পিস’ হামাস ও গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি সমঝোতার কথা জানায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হামাসের অস্ত্র নতুন একটি ফিলিস্তিনি প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং এর বিনিময়ে ধাপে ধাপে গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করা হবে।

তবে পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে আপত্তি জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর অবস্থান হলো, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। ফলে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের মধ্যে কোনটি আগে হবে এবং কী শর্তে হবে—এ বিষয়টিই এখন আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।

তবে ইসরাইলের আপত্তি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনাটি বাতিল করেনি। ‘বোর্ড অব পিস’-এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আপত্তি সত্ত্বেও পরিকল্পনাটি কার্যকর রয়েছে এবং ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। অর্থাৎ হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরাইলি সেনাদের পুনর্বিন্যাস এবং গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়ে সমঝোতার পথ এখনো খুঁজছে ওয়াশিংটন।

যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার প্রশাসন নিয়েও পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা রয়েছে। সেখানে দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব একটি ফিলিস্তিনি কারিগরি কমিটির হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী এবং নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ কাঠামোর মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা রয়েছে।

এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘোষিত ২০ দফা গাজা পরিকল্পনা। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। এই ধাপে যুদ্ধ-পরবর্তী প্রশাসন, নিরস্ত্রীকরণ, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং গাজার পুনর্গঠনের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তীতে গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হয়। জানুয়ারিতে ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করা হয় এবং জ্যারেড কুশনারসহ একাধিক ব্যক্তিকে এতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। মার্চে বোর্ডের পক্ষ থেকে হামাসের কাছে নিরস্ত্রীকরণের প্রস্তাবও পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।

তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শুধু ইসরাইলের অবস্থানই গুরুত্বপূর্ণ নয়, হামাসের অবস্থানও বড় বিষয়। হামাস জানিয়েছে, তারা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এগোচ্ছে এবং ইসরাইলকেও পরিকল্পনায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি ইসরাইলের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।

এ অবস্থায় কুশনারের আসন্ন ইসরাইল সফরকে ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা কার্যকর রাখার গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরাইলের নিরাপত্তা উদ্বেগ, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি এবং গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন—সবগুলো বিষয়েই সমঝোতা তৈরির চেষ্টা করবেন মার্কিন প্রতিনিধিরা।

ইসরাইল সফরের পর মিশরে আলোচনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময় আলোচনায় মিশর দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। ফলে কুশনার ও ম্লাদেনভের আঞ্চলিক সফরে ইসরাইলের আপত্তি মেটানোর পাশাপাশি পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নে মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা এখন গুরুত্বপূর্ণ এক পরীক্ষার মুখে রয়েছে। হামাস নিরস্ত্রীকরণে এগোতে আগ্রহী হলেও ইসরাইল সেনা প্রত্যাহারের আগে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের নিশ্চয়তা চাইছে। এই দুই অবস্থানের মধ্যে সমঝোতা তৈরি করাই কুশনারের আসন্ন সফরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ