২০২১ সালে এক জুম কলে প্রায় ৯০০ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করে আলোচনায় আসা ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন কর্মকর্তা ভিশাল গর্গ এবার নিজেই হারিয়েছেন নিজের পদ। তবে সিইও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর হাল ছাড়েননি তিনি। বরং আবারও কোম্পানির শীর্ষ পদে ফিরতে পরিচালনা পর্ষদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। গত ৩ আগস্ট অনলাইন মর্টগেজ প্রতিষ্ঠান বেটার হোম অ্যান্ড ফাইন্যান্সের প্রধান […]
ছবি: সংগৃহীত
২০২১ সালে এক জুম কলে প্রায় ৯০০ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করে আলোচনায় আসা ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন কর্মকর্তা ভিশাল গর্গ এবার নিজেই হারিয়েছেন নিজের পদ। তবে সিইও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর হাল ছাড়েননি তিনি। বরং আবারও কোম্পানির শীর্ষ পদে ফিরতে পরিচালনা পর্ষদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
গত ৩ আগস্ট অনলাইন মর্টগেজ প্রতিষ্ঠান বেটার হোম অ্যান্ড ফাইন্যান্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ থেকে গর্গকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ড্যানিয়েল লুইস।
গর্গের অভিযোগ, কৌশলের মাধ্যমে তাকে সিইওর পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন লুইস। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোম্পানির কৌশলকে সমর্থন করার মাধ্যমে লুইস পরিচালনা পর্ষদের আস্থা অর্জন করেন। পরে সেই আস্থাকে কাজে লাগিয়ে তিনি নিজেই সিইওর পদ দখল করেন।
প্রায় ছয় মাস আগে হেজ ফান্ড ব্যবস্থাপক লুইস গর্গের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সে সময় কোম্পানির ব্যয় কমানো এবং মুনাফা বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছিলেন।
গর্গ জানান, লুইসের ব্যয় কমানোর পরিকল্পনাগুলো তার কাছে কার্যকর মনে হয়েছিল। তবে উদ্ভাবনসংক্রান্ত তার প্রস্তাবগুলোকে ভালো মনে হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গত ২৭ জুলাই লুইসকে বেটারের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য করা হয়। এর মাত্র এক সপ্তাহ পরই তিনি অন্য পরিচালকদের গর্গকে সিইওর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে রাজি করান বলে অভিযোগ গর্গের। এরপর তাকেই কোম্পানির নতুন প্রধান নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
গর্গের ধারণা, লুইসের লক্ষ্য শুরু থেকেই সিইওর পদে যাওয়া ছিল। এ ঘটনায় পরিচালনা পর্ষদ ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
নিজের পদ ফিরে পেতে গর্গ এবার উচ্চপ্রোফাইল আইনজীবী অ্যালেক্স সাপিরোকে নিয়োগ করেছেন। কুইন ইমানুয়েল আইন প্রতিষ্ঠানের অংশীদার সাপিরোর মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখানে গর্গকে পুনরায় সিইও হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
গর্গ বলেন, প্রায় এক দশক ধরে তিনি কোম্পানিটির সঙ্গে যুক্ত এবং এর উন্নয়নে কাজ করেছেন। তবে নিজের দায়িত্ব পালনের সবকিছু নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেননি বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। এ বিষয়ে শেষ পর্যন্ত একটি সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন গর্গ।
২০২১ সালের ডিসেম্বরে বেটারের প্রায় ৯০০ কর্মীকে একটি জুম কলে চাকরিচ্যুত করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন ভিশাল গর্গ। ওই সময় তিনি বাজার পরিস্থিতি, কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতার বিষয়গুলোকে ছাঁটাইয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
সেসময় চাকরি হারানো কর্মীর সংখ্যা ছিল কোম্পানিটির মোট কর্মীর প্রায় ৯ শতাংশ। ছাঁটাইয়ের আওতায় বেটারের পুরো বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি বা ডিইআই (DEI) দলও পড়েছিল।
এ ছাড়া গর্গ তখন অভিযোগ করেছিলেন, চাকরিচ্যুত হওয়া প্রায় ২৫০ কর্মী কাজের সময় বাড়িয়ে দেখিয়ে অনলাইন মর্টগেজ প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন।
সেই গণছাঁটাইয়ের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন গর্গ। প্রায় পাঁচ বছর পর এখন সেই একই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব হারিয়ে নিজের পদ ফিরে পাওয়ার জন্যই পরিচালনা পর্ষদের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি