চট্টগ্রাম বন্দরে সেবা প্রণালীর মাশুল বৃদ্ধির কারণে পণ্য পরিবহন ও ডেলিভারিতে বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরের এই পরিস্থিতিতে বন্দর ও ডিপোতে পণ্যের জমাট বাধা চোখে পড়ার মতো। এই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও মালিক সমিতি প্রতিবাদ কর্মসূচি ও ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছে। সেবা মাশুল বৃদ্ধির প্রতিবাদে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসের কর্মবিরতি […]
চট্টগ্রাম বন্দরে সেবা প্রণালীর মাশুল বৃদ্ধির কারণে পণ্য পরিবহন ও ডেলিভারিতে বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরের এই পরিস্থিতিতে বন্দর ও ডিপোতে পণ্যের জমাট বাধা চোখে পড়ার মতো। এই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও মালিক সমিতি প্রতিবাদ কর্মসূচি ও ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছে।
সেবা মাশুল বৃদ্ধির প্রতিবাদে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসের কর্মবিরতি
রোববার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং) এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন কর্মবিরতি পালন করে। তাদের এই কর্মসূচির মূল কারণ ছিল বন্দর কর্তৃপক্ষের সেবা মাশুল অর্থাৎ বন্দরে পণ্য পরিবহনের খরচ চারগুণ বৃদ্ধি করা। এসময় তারা বন্দরের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত ছিল, যার ফলে পণ্য খালাস প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে।
পাঁচদিন ধরে চলছে ধর্মঘট, প্রাইম মুভার ও লরি মালিকদের অবস্থান কঠোর
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসের কর্মবিরতির পাশাপাশি প্রাইম মুভার ও লরি মালিক সমিতি গত পাঁচ দিন ধরে ধর্মঘট পালন করছে। তারা বন্দরের নতুন প্রবেশ ফি চারগুণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করে আসছে। যদিও বন্দরের অফিসিয়াল সূত্রে জানানো হয়, শনিবার বন্দর কর্তৃপক্ষ মাশুল কমানোর জন্য বৈঠক করেছে এবং শিগগিরই লিখিত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। তবে প্রাইম মুভার মালিকরা লিখিত নিশ্চয়তা না পেলে ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন।
পণ্যের জট ও ডেলিভারিতে প্রভাব: ব্যবসায়ে ক্ষতি
এই আন্দোলনের প্রভাবে বন্দরে পণ্যের জট তৈরি হয়েছে এবং ডেলিভারি কার্যক্রম প্রায় এক তৃতীয়াংশ কমে গেছে। বন্দর ও ডিপোতে পণ্য হস্তান্তর ও পরিবহনে বাধা সৃষ্টির কারণে ব্যবসায়ীরা চরম অসুবিধায় পড়েছেন। এসব কারণে দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবাদ সভা ও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
শনিবার নগরীর নেভি কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় পোর্ট ইউজার্স ফোরামের আহ্বায়ক আমীর হুমায়ূন মাহমুদ চৌধুরী জানান, মাশুল বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত না হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরও বড় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসের সভাপতি এস এম সাইফুল আলমের বক্তব্য
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম বলেন, “মাশুল বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না। প্রতিদিন আমরা প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাব।” তিনি আরও জানান, চার ঘণ্টার কর্মবিরতিতে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া এক সময় বন্ধ থাকলেও দিনের শেষভাগে তা পুনরায় শুরু করা হয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষের অবস্থান ও ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া
বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, “প্রাইম মুভারের ফি কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে, তবে লিখিত প্রমাণ প্রদানের জন্য কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। তাই কিছুটা সময় লাগবে।” তবে প্রাইম মুভার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জানান, লিখিত নিশ্চয়তা না পেলে ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে বন্দরের নতুন মাশুল গেজেট প্রকাশিত হয়েছে এবং ১৫ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হয়েছে। নতুন মাশুলের কারণে গড়ে প্রায় ৪১ শতাংশ খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বিদেশি অপারেটরদের জন্য সুবিধা নিশ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দুই হাজার ব্যবসায়ী গতকাল এক প্রতিবাদ সভায় মাশুল বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান।
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার। এখানে পণ্যের দ্রুত ও সুষ্ঠু পরিবহন দেশের অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য। সেবার মাশুল বৃদ্ধি হলে ব্যবসার খরচ বেড়ে যায়, যা পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর প্রতিকূল প্রভাব ফেলে। এছাড়াও, বন্দর ও ডিপোতে দীর্ঘ সময় ধরে পণ্যের জট তৈরি হলে সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন ঘটে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমঝোতা না হলে এই ধরণের অবরোধ ও ধর্মঘট দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। তাই দ্রুত সমস্যা সমাধানে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।